default-image

পাকিস্তানে তেহেরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তানের (টিএলপি) প্রধান আল্লামা সাদ হুসাইন রিজভিকে গ্রেপ্তারের পর কয়েকটি প্রধান শহরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল সোমবার বিকেল থেকে এ সহিংসতায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন পুলিশসহ অনেকে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানায়, ফ্রান্সে ইসলামবিরোধী ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশের ঘটনার জেরে ইসলামাবাদে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের দাবি জানান আল্লামা রিজভি। এরপর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

ফ্রান্সে গত বছর ইসলামবিরোধী ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশের পর থেকে বিক্ষোভ করে আসছে টিএলপি। ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে ফেরত পাঠানো ও দেশটি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ ঘোষণার জন্য পাকিস্তান সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে আসছে দলটি।

বিজ্ঞাপন

গত ১৬ নভেম্বর টিএলপির সঙ্গে পাকিস্তান সরকারের চুক্তি হয়। তাদের দাবি নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনার জন্য তিন মাস সময় নেয় সরকার। তবে ১৬ ফেব্রুয়ারি চুক্তির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে সরকার জানায়, এ মুহূর্তে টিএলপির দাবি মানা সম্ভব নয়, এবং এর জন্য আরও সময় দরকার। ফলে টিএলপি তাদের দাবি মানার জন্য আরও আড়াই মাস সময় দেয় সরকারকে। চলতি মাসের ২০ তারিখ এ সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা।

গত রোববার সমর্থকদের উদ্দেশে একটি ভিডিওবার্তা দেন আল্লামা রিজভি। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে সরকার দাবি মেনে না নিলে টিএলপি কর্মীদের লংমার্চের জন্য প্রস্তুত হতে বলেন তিনি। এরপর তাঁকে গ্রেপ্তার করে সরকার।

লাহোরে ওয়াহদাত রোডে বেলা দুইটায় একটি জানাজায় অংশ নিতে গেলে টিএলপির প্রধানকে গ্রেপ্তার করে নিরাপত্তা বাহিনী। এর প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দেয় দলটি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডের বিভিন্ন পয়েন্ট বন্ধ করে দেয় টিএলপির সমর্থকেরা। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে লাহোর থেকে গুজরানওয়ালা, ইসলামাবাদ ও পেশোয়ার শহরে। পুরো দেশের সঙ্গে শহরগুলোর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

মহাসড়ক ও রেললাইন বন্ধ করে দেয় বিক্ষোভকারীরা। নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে কয়েক জায়গায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পাকিস্তান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন