default-image

পাকিস্তানের আসন্ন সিনেট নির্বাচন ‘অতীতের মতো সংবিধান ও আইন মেনেই’ হবে বলে দেশটির নির্বাচন কমিশন (ইসিপি) জানিয়েছে। পূর্বঘোষিত সময় অনুযায়ী আগামীকাল ৩ মার্চ এ নির্বাচন হওয়ার কথা। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষে (সিনেটে) সংবিধানের ২২৬ নম্বর আর্টিকেল অনুযায়ী গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের পক্ষে মত দেন।

পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের বিবৃতির বরাত দিয়ে ডনের খবরে বলা হয়, ‘সময়ের সীমাবদ্ধতার’ কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১ মার্চ প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিকান্দার সুলতান রাজার সভাপতিত্বে অন্য সদস্যদের উপস্থিতিতে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকের আগে সেদিনই সুপ্রিম কোর্ট পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের করা সুপারিশের আলোকে মতামত দেন। সেখানে বলা হয়, পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ সিনেটে সংবিধানের ২২৬ নম্বর আর্টিকেল অনুযায়ী গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ হবে।

দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের খবরে বলা হয়, সংবিধান সংশোধন ছাড়াই প্রকাশ্যে ব্যালটের মাধ্যমে সিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে চাওয়া পরামর্শের ওপর মতামত দেন আদালত।  ২০১৮ সালে ব্যাপক ভোটে বিজয়ী পিটিআই প্রকাশ্য ভোটের মাধ্যমে সিনেট নির্বাচন চেয়েছিল। এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে বলে দলটি দাবি করে। অন্যদিকে পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট পার্টি এর ঘোর বিরোধিতা করে। তারা মনে করে ক্ষমতাসীন দলের আইনপ্রণেতারা যাতে দলের আনুগত্যের বাইরে যেতে না পারেন, সে জন্য এই উদ্যোগ।

বিজ্ঞাপন
default-image

পরে সরকারের পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধনের বিল আনা হয়। স্ট্যান্ডিং কমিটিতে তা পাসও হয়। পরে সরকারের পক্ষ থেকে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে সংবিধানের সংশোধনের বিল আনা হলে অধিবেশন গোলযোগ তৈরি হয়। বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। কেন্দ্রীয় সরকার এ বিষয়ে মতামত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানায়।
নির্বাচন কমিশনের সেই বৈঠকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনামা নিয়ে আলোচনা হয়।

আদালত বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব...দুর্নীতিমুক্তভাবে আইন অনুযায়ী সততা, ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনা নিশ্চিত করা।’ একই সঙ্গে আদালত সব প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে চলতে বাধ্যবাধকতার ওপর জোর দেন। নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে বলে মতামত দেন সর্বোচ্চ আদালত।


এর এক দিন আগে দেশটির তথ্যমন্ত্রী শিবলী ফারাজ ইসিপিকে সিনেট নির্বাচনে দুর্নীতি ও গোপনীয়তা রোধে ও ‘বাস্তব পদক্ষেপ’ নিতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি ব্যালট পেপারে বার কোড বা সিরিয়াল নম্বর ব্যবহার করার অনুরোধ জানান।


সুপ্রিম কোর্টের মতামত ঘোষণার পর আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পিটিআইয়ের সিনেটর ফসয়াল জাবেদ। তিনি বলেন, ইসিপিকে শনাক্তযোগ্য ব্যালট, সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।

পাকিস্তান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন