সোনালি-সাদা শেরওয়ানি আর লাল লেহেঙ্গাতে হাস্যোজ্জ্বল বর-কনে। চলছে ছবি তোলা। একের পর এক ক্লিক করছেন আলোকচিত্রী। এ পর্যন্ত সব কিছুই ঠিকঠাক, স্বাভাবিক। তবে বর-কনের মাঝখানে তাকালে চোখ কপালে উঠবে। সেখানে শুয়ে আছে একটা সিংহশাবক।

ছবি তোলার অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে নিস্তেজ সিংহশাবকটিকে। ঘটনাটি পাকিস্তানের লাহোরে। সিংহশাবকসহ বর-কনের ছবি তোলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। আর তাতেই ছড়িয়ে পড়েছে তুমুল বিতর্ক। বাণিজ্যিক কাজে বন্য প্রাণী ব্যবহারের নিন্দা জানিয়েছে প্রাণী অধিকার রক্ষার দাবিতে সোচ্চার বিভিন্ন সংগঠন।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিয়ো নিউজ জানিয়েছে, সিংহশাবক সঙ্গে নিয়ে বর-কনের ছবি তোলার আয়োজন করে লাহোরের প্রতিষ্ঠান এএফজেডএল স্টুডিও। পরে সেই ছবি তোলার ছোট্ট একটি ভিডিও প্রতিষ্ঠানটির ইনস্টাগ্রামে আপলোড করা হয়।
ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বর-কনের মাঝখানে শুয়ে আছে ছোট্ট সিংহশাবক। নবদম্পতি শাবকটির মাথার ওপরে হাতে হাত রেখে ছবি তুলছেন।

বিজ্ঞাপন

আরেকটি ছবি তোলার সময় মঞ্চে বসে থাকা বর-কনের সামনে কিছুটা দূরে নিস্তেজ সিংহশাবকটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে আপলোড করা ভিডিওতে ‘শেরদিরানি’ হ্যাশট্যাগ যুক্ত করে দেওয়া হয় সিংহশাবকটির উপস্থিতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। ভিডিওটি নিয়ে প্রথমে সরব হয় জেএফকে অ্যানিমেল রেসকিউ অ্যান্ড শেল্টার নামের একটি সংগঠন। বিয়ের ছবি তোলার কাজে বন্য প্রাণী ব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানায় তারা।
পরে সেটি টুইটারে শেয়ার করে ‘সেভ দ্য ওয়াইল্ড’ নামের একটি গ্রুপ। পাকিস্তানে বন্য প্রাণী শিকার, তাদের আবাস ধ্বংস এবং কীটনাশক ব্যবহার বন্ধের দাবি নিয়ে কাজ করছে তারা।

গ্রুপটির অফিশিয়াল টুইটার পেজে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। সেখানে পাঞ্জাব ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড পার্কস ডিপার্টমেন্টকে ট্যাগ করে এ ঘটনায় হস্তক্ষেপ এবং প্রাণীটি উদ্ধারের আহ্বান জানানো হয়। সামাজিক উৎসবের আকর্ষণ বাড়াতে সিংহশাবক ভাড়া করার বিষয়টি নিয়মের মধ্যে পড়ে কি না, তা জানতে চাওয়া হয় ওই পোস্টে।

ওই টুইটের সূত্র ধরে আরও অনেক টুইটার ব্যবহারকারী শাবকটির অপব্যবহারের জন্য স্টুডিও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
একজন টুইটে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর ডিজিটাল মিডিয়াবিষয়ক ফোকাল পারসন আজহার মাশওয়ানিকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানান। শাবকটিকে রক্ষা করার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পাকিস্তান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন