বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইমরান খান ও তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) কড়া সমালোচনা করেন নওয়াজ শরিফ। পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতির জন্য ইমরানকে দায়ী করেন তিনি।

বৈঠকে বিলওয়াল পিএমএল-এন থেকে প্রধানমন্ত্রী ও পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় নওয়াজকে অভিনন্দন জানান। নওয়াজের ভাই শাহবাজ শরিফ প্রধানমন্ত্রী আর তাঁর ভাতিজা হামজা শাহবাজ পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন।

বৈঠকে নওয়াজ শরিফ ও বিলাওয়াল পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। জাতীয় রাজনৈতিক বিষয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তাঁরা।

সুপ্রিম কোর্ট ২০১৭ সালে নওয়াজ শরিফকে প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য ঘোষণা করে। দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত নওয়াজ সাজাভোগের সময় চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। এরপর সেখান থেকে আর তিনি দেশে ফেরেননি।

বৈঠকর পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন দুই নেতা। নওয়াজ দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ডলারের বিপরীতে রুপির অব্যাহত পতনে দুঃখপ্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে অনেক সময় লাগবে। কাজটি সহজ নয়।
দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের অবনতির সমালোচনা করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ইমরান খান ও তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) যে পরিবেশ তৈরি করেছেন, এমনটা তিনি আগে কখনো দেখেননি। বিদায়ী সরকারের আমলকে পাকিস্তানের ইতিহাসে ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। প্রায় সব ইস্যুতে ‘পল্টি নেওয়ায়’ ইমরান খানের কড়া সমালোচনাও করেন তিনি।

ইমরানের বিরুদ্ধে বিদেশি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে নওয়াজ বলেন, ‘আপনি কি পারমাণবিক বিস্ফোরণে জড়িত ছিলেন? তাহলে কেন আপনার বিরুদ্ধে বিদেশি ষড়যন্ত্র হবে।’

ইমরান খানের বিদায় দেশের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল মন্তব্য করে নওয়াজ বলেন, পিএমএল-এন সরকারের আমলে দেশের অর্থনীতি সঠিক পথে ছিল। ইমরান খান দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছেন। অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে, তা এখন সারিয়ে তুলতে হবে।

পিএমএল-এনের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ, ইমরান খান সরকারের চার বছরের আমলে সবচেয়ে খারাপ সময়ের মুখোমুখি হয়েছে পাকিস্তান। সব বিষয়ে তিনি পল্টি নেন। তিনি যা করার অঙ্গীকার করেন, তার সম্পূর্ণ উল্টোটা করেন।’

ইমরান খানকে খোঁচা দিয়ে নওয়াজ আরও বলেন, ‘আর্থিক সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দ্বারস্থ হওয়ার আগে আত্মহত্যার ঘোষণা দিয়েছিলেন ইমরান খান। কিন্তু আমরা তো এখন পর্যন্ত তাঁকে আত্মহত্যা করতে দেখলাম না।’

জাতীয় পরিষদে বিরোধী জোটের আনা অনাস্থা প্রস্তাবে হেরে ৯ এপ্রিল ক্ষমতাচ্যুত হন ইমরান খান। এই অনাস্থা প্রস্তাবের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছেন তিনি। তবে বিরোধী জোট ও যুক্তরাষ্ট্র ইমরান খানের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

পাকিস্তান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন