ওয়াশিংটনে পাকিস্তান দূতাবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী মিফতাহ ইসমাইল বলেন, ঋণ বাড়ানোর অনুরোধের বিষয়ে আলোচনা করতে আইএমএফ কর্মকর্তা পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে পাঠাবে। পাকিস্তানের দেওয়া প্রস্তাবের ওপর কাল মঙ্গলবার থেকেই কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

মিফতাহ ইসমাইল আরও বলেন, ‘বর্ধিত ঋণ কর্মসূচির বিষয়ে কর্মকর্তা পর্যায়ের চুক্তি শিগগিরই সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশা করছি।’ তবে আগামী বাজেটের আগেই ঋণের পরবর্তী অংশ প্রায় এক বিলিয়ন ডলার পাওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি।

এই ঋণ পেতে সম্প্রতি দেওয়া ভর্তুকি পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে এবং আসন্ন বাজেটে অন্যান্য পদক্ষেপ নিতে হবে। নতুন সরকারকে জ্বালানি ও বিদ্যুতে দেওয়া বিদ্যমান ভর্তুকি যত দ্রুত সম্ভব প্রত্যাহার করে নিতে সুযোগ দিতে সম্মত হয়েছে আইএমএফ।

বর্তমানে প্রতি লিটার পেট্রলে ২১ রুপি, প্রতি লিটার ডিজেলে ৫১ দশমিক ৫২ রুপি এবং প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে ৫ রুপি ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। জ্বালানিতে ভর্তুকি কমানো এবং ব্যবসায়ীদের দেওয়া কর দায়মুক্তি স্কিম বাতিলে আইএমএফের পরামর্শের বিষয়ে গত শুক্রবার একমত হয়েছেন মিফতাহ ইসমাইল।

বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ এবং প্রবাসী আয় কমে যাওয়ায় পাকিস্তানের ব্যালেন্স অব পেমেন্ট এবং বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভে ধাক্কা খায়। জ্বালানির বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধি অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়ায়। এ অবস্থায় ২০১৯ সালে তিন বছরের জন্য আইএমএফ থেকে ছয় বিলিয়ন ডলার ঋণ নেয় পাকিস্তান। তবে অর্থনীতিতে প্রতিশ্রুত সংস্কার আনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেওয়ায় ঋণ বিতরণে ধীরগতি দেখা দেয়। এখন পর্যন্ত ওই ঋণের কেবল তিন বিলিয়ন ডলার হাতে পেয়েছে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন