default-image

মার্কিন সাংবাদিক ডেনিয়েল পার্ল হত্যায় অন্যতম অভিযুক্ত ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত আহমেদ ওমর সাঈদ শেখের (৪৭) খালাসের রায় বহাল রেখেছেন পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল বৃহস্পতিবারে দেওয়া এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে সিন্ধুর প্রাদেশিক সরকার বলছে, তারা সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের বিপক্ষে রিভিউ পিটিশন করবে।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ডেনিয়েলের পরিবার পাকিস্তানের আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ‘অযৌক্তিক বিচার’ বলে মন্তব্য করে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। ডেনিয়েলের পরিবারের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, সাঈদ মুক্তি পেলে সব স্থানের সাংবাদিকেরা বিপদের মুখে পড়বেন। একই অবস্থা হবে পাকিস্তানেও।

 যুক্তরাষ্ট্রও এ ব্যাপারে ক্ষোভ জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রধান মুখপাত্র জেন সাকি এক বিবৃতিতে পাকিস্তান সরকারের প্রতি এই রায়ের বিকল্প আইনি বিষয়গুলো পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল জেফরি রোসেন ওয়াশিংটনে বলেছেন, বিচারের জন্য ওমর শেখকে তাঁরা হেফাজতে নিতে প্রস্তুত।

বিজ্ঞাপন

২০০২ সালে করাচিতে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোপ্রধান পার্লকে (৩৮) অপহরণ শেষে করাচিতে শিরোশ্ছেদ করা হয়। ইসলামপন্থী জঙ্গিদের নিয়ে তিনি বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন তৈরির কাজ করছিলেন। এক মাস পর পার্লের শিরোশ্ছেদের একটি ভিডিও মার্কিন কনস্যুলেটে পাঠানো হয়েছিল। ২০০২ সালেই আহমেদ ওমর সাঈদ শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর সন্ত্রাসবিরোধী আদালতে প্রথমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের সাবেক এই শিক্ষার্থীকে। তাঁর অন্য তিন সহযোগীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পরে ২০১১ সালে জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ল প্রজেক্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাংবাদিক পার্ল হত্যায় ভুল ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এর মূল হোতা ৯/১১ ঘটনায় অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদ। যিনি ২০০৩ সালে পাকিস্তানে গ্রেপ্তার হয়ে গুয়ানতানামো বে কারাগারে বন্দী। এরপর গত বছরের ২ এপ্রিল পাকিস্তানের একটি আদালত সাঈদ শেখের মৃত্যুর দণ্ডাদেশ প্রত্যাহার করে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন। সাঈদ ২০০২ সালে বন্দী হওয়ায় ওই কারাদণ্ডের মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে।

মন্তব্য করুন