এ ধরনের অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো। তারা জানায়, আইএসআই লাহোর সেক্টর কমান্ডার তাঁর কিছু পেশাগত কাজের জন্য দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইসলামাবাদে অবস্থান করায় তিনি লাহোরেই নেই।

পিটিআই নেত্রী ও পাঞ্জাবের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইয়াসমিন রশিদ সম্প্রতি আইএসআইয়ের এই সেক্টর কমান্ডারের নাম উল্লেখ করে বলেন, পাঞ্জাবে উপনির্বাচনে কারচুপি করতে রাজনীতিতে জড়িয়েছেন এই সেনা কর্মকর্তা।

এর আগে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পিটিআইয়ের ডেপুটি চেয়ারম্যান শাহ মাহমুদ কোরেশি অভিযোগ করে বলেন, এই প্রদেশের উপনির্বাচন প্রভাবিত করতে পিটিআইয়ের বিরুদ্ধে কিছু অদৃশ্য বাহিনী সক্রিয়।

সম্প্রতি পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান ইমরান খান বলেন, তাঁর কিছু প্রার্থী অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন পেয়েছেন বলে তাঁর কাছে অভিযোগ করেছেন। এই নির্বাচন ঘিরে তাঁর দলের নেতা–কর্মীদের চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো জোর দিয়ে বলছে, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের দুর্নাম করার চেয়ে পিটিআইয়ের উচিত প্রমাণ হাজির করা। যদি সামান্য প্রমাণও দেওয়া হয়, দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এক মাস আগে দেশটির শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দ্য নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইএসআই মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাদিম আনজুম সংস্থাটির কর্মকর্তাদের স্পষ্ট করে বলেছিলেন, রাজনীতিতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ নয়। কোনো ধরনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা সহ্য করা হবে না।

রাজনৈতিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগে অতীতে পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাটি বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল। একই কারণে বর্তমানেও সংস্থাটি রাজনৈতিক ও সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় রয়েছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য চমৎকার কাজ করা সত্ত্বেও অননুমোদিত রাজনৈতিক ভূমিকার কারণে আইএসআইয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বর্তমান আইএসআই মহাপরিচালক বলেন, অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়াতে এবং সংস্থার প্রধান কাজে জোর দিতে দায়িত্ব গ্রহণের পরই তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।’

পাকিস্তান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন