default-image

ব্রাজিলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইয়ানোমামি গোত্রের এক কিশোর মারা গেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ এ খবর জানায়। এতে নতুন করে রোগের ঝুঁকিতে ভুগতে থাকা আমাজনের আদিবাসীদের নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

১৫ বছর বয়সী ওই কিশোর ইয়ানোমামি গোত্রের প্রথম সদস্য, যার মধ্যে ভাইরাসটি শনাক্ত হলো। কর্তৃপক্ষ বলছে, সপ্তাহখানেক আগে বোয়া ভিস্তায় একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল। হাসপাতালটি ব্রাজিলের উত্তরের একটি রাজ্যের রাজধানী।

ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে মারাত্মক শ্বাসকষ্টে ভুগে ছেলেটি মারা যায়।

আমাজনের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। তারা আমাজনের বাইরে থেকে আসা রোগের ঝুঁকিতে ভোগে। ইয়ানোমামিদের অধিকার রক্ষায় কাজ করছে, এমন একটি সংগঠন বলছে, ছেলেটির মধ্যে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা যাওয়ার পর সে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অনেকের সংস্পর্শে এসেছিল।

হুতুকারা অ্যাসোসিয়েশন কিশোরের মৃত্যুর জন্য অপর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবাকে দায়ী করেছে। শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পর তাকে চিকিৎসার জন্য দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

সংগঠনটি কর্তৃপক্ষকে তথ্য সংগ্রহ করে আদিবাসীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সেলফ আইসোলেশনের আহ্বান জানিয়েছে। অবৈধভাবে আমাজনের স্বর্ণের খনি থেকে যারা স্বর্ণ তুলে নিয়ে যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাইরে থেকে আসা এই লোকজনই আমাজনে ভাইরাস নিয়ে গেছে।

আমাজোনিয়া রিয়েল নিউজ এজেন্সির সম্পাদক কাতিয়া ব্রাজিল বলেন, আদিবাসীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া জাতিগত হত্যার শামিল হবে। এই নিউজ এজেন্সিটি, বিশেষ করে আমাজনের মানুষকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে।

ইয়ানোমামি নেতা দারিও ইয়াওয়ারিওমা বলেন, ‘এই রোগটি আমাদের জন্য খুবই বিপজ্জনক, আজকের এ দিনটি ইয়ানোমামিদের জন্য খুবই বেদনার।’

প্রায় ৩০০ আদিবাসী গোত্রের আট লাখ মানুষ ব্রাজিলে বাস করে। তাদের মধ্যে ইয়ানোমামিরা মুখমণ্ডলকে বিচিত্রভাবে রাঙানো ও নাক–কানসহ অঙ্গের বিভিন্ন স্থান ছিদ্র করে অলংকার ব্যবহারের জন্য বিখ্যাত। আমাজনে তাদের সংখ্যা ২৭ হাজার।

বাইরের পৃথিবী থেকে বিশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত এরা একরকম বিচ্ছিন্ন ছিল। ১৯৭০ সালে হাম ও ম্যালেরিয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তারা।
হুতুকারা অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, যে কিশোরটি মারা গেছে, সে আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত বোকুয়েরাওতে শিক্ষক হওয়ার জন্য লেখাপড়া করছিল।
গ্লোবো সংবাদপত্র বলছে, ব্রাজিলে করোনায় মারা যাওয়া ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে তৃতীয় সদস্য এই কিশোর।
অন্য দুজন বোরারি ও মুরু গোত্রের। পাঁচটি গোত্রের আটজন এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানাচ্ছে গ্লোবো।
লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিল করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত। এখন পর্যন্ত দেশটিতে মারা গেছে এক হাজার মানুষ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন