default-image

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কিউবার আবিষ্কৃত টিকার উৎপাদনে যাচ্ছে ভেনেজুয়েলা। মাসে ২০ লাখ করে এ টিকা উৎপাদন করতে আশাবাদী দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। গতকাল রোববার তিনি নিজেই বিষয়টি জানিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, সমাজতান্ত্রিক মিত্রের আবডালা নামে এ টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালও চালানো হবে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে।

এক টিভি ভাষণে মাদুরো বলেন, ‘টিকা উৎপাদনের জন্য আমাদের ল্যাবরেটরিগুলোর সঙ্গে আমরা চুক্তি করেছি। আশা করছি, আগস্ট–সেপ্টেম্বরের দিকে ২০ লাখ করে আবডালা টিকা উৎপাদন করা হবে।’

এ সপ্তাহের শুরুতে মাদুরো সরকার দাবি করেছিল যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা ইতিমধ্যে ৩ কোটি করোনার টিকা কিনে রেখেছে।

বিজ্ঞাপন

তবে বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুয়াদোর অভিযোগ, সরকার মিথ্যা বলছে এবং ভেনেজুয়েলায় টিকার সংকট রয়েছে। এর জন্য তিনি মাদুরোকে দায়ী করেছেন।

করোনা প্রতিরোধে কিউবা চারটি টিকা বানিয়েছে, সেগুলো এখন বিভিন্ন পর্যায়ের ট্রায়ালে রয়েছে। দ্বীপরাষ্ট্রটি ইতিমধ্যে তার স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। তাঁদের ওপর দুটি টিকা ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো এখন তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে আছে।

টিকা দুটির মধ্যে একটি হচ্ছে আবডালা। কিউবার ১ লাখ ২৪ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীকে এ টিকা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৪৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর ওপর টিকাটির তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে চলছে। অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা আবডালা টিকাই পুরো লাতিন আমেরিকায় প্রথম বানানো এবং উৎপাদিত টিকা হতে যাচ্ছে।

এদিকে রাশিয়া থেকে আড়াই লাখ স্পুতনিক-ভি এবং চীন থেকে পাঁচ লাখ সিনোফার্মের টিকা পায় মাদুরো সরকার। তবে ধীরগতিতে চলছে ভেনেজুয়েলার টিকাদান কর্মসূচি।

মাদুরো বলেন, তাঁর সরকার টিকা উৎপাদনের জন্য রাশিয়া, চীন ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে চুক্তি করবে। তাঁর সরকার জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোভ্যাক্স উদ্যোগ থেকে ১ কোটি ১৩ লাখ টিকা তারা চায়, এর জন্য অর্ধেক মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে।

সরকারি হিসাবে ৩ কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার জন এবং মারা গেছেন ১ হাজার ৭০০ জনের মতো। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, বাস্তব পরিসংখ্যান এখানে উঠে আসেনি।

বিজ্ঞাপন
দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন