বিজ্ঞাপন

সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, একদল লোক সরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিলেন। এ দলে তেজেদাও ছিলেন।

তেজেদা ঠিক কীভাবে নিহত হলেন, সে সম্পর্কে কিউবা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে কিউবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, তেজেদার মৃত্যুতে তারা শোকাহত।

কিউবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলা হয়, সোমবার রাজধানী হাভানার একটি শহরতলিতে বিশৃঙ্খলায় জড়িত ছিলেন তেজেদা। সেখানে একদল লোক সরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিলেন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন।

তবে ঘটনার বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁদের ভাষ্য, হাভানার শহরতলিটিতে সোমবার স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ বের হয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া লোকজনের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী হামলা চালায়।

ওয়াল্ডো হেরেরা নামের স্থানীয় এক অধিবাসী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বন্দুক তাক করেন। তারপর গুলি ছুড়তে শুরু করেন।

ওয়াল্ডো বলেন, ‘আমার মনে হয়, কমিউনিস্টরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। এ পরিস্থিতির সমাধান তাদের কাছে নেই।’

কিউবায় সরকারবিরোধী বিরল বিক্ষোভের জেরে ধরপাকড় চলছে। এ পর্যন্ত শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনেরা উদ্বিগ্ন অবস্থায় রয়েছেন। তাঁরা গ্রেপ্তার হওয়া স্বজনদের অবস্থা জানতে চাইছেন।

অস্থিরতার জেরে গতকাল মঙ্গলবার কিউবার সড়কে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি ও তৎপরতা দেখা গেছে। এদিকে কিউবাজুড়ে ইন্টারনেট ‘ব্ল্যাকআউট’ চলার খবর পাওয়া গেছে।

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল বিক্ষোভকারীদের প্রতিবিপ্লবী হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই প্রতিবিপ্লবীদের (বিক্ষোভকারী) মোকাবিলার জন্য তিনি বিপ্লবীদের রাস্তায় নামতে বলেছেন।

default-image

কিউবায় অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দোষারোপ করেছেন মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল। কিউবার ওপর দীর্ঘদিন ধরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞাকে অর্থনৈতিকভাবে দমবন্ধের নীতি হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।

স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিউবার মতাদর্শিক বিরোধ চলে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশটির বিরুদ্ধে চলমান নিষেধাজ্ঞা জোরদার করেছে ওয়াশিংটন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আর অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে কিউবার জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল। বিশেষত, খাবার ও জ্বালানির মতো নিত্যপণ্যের ঘাটতি, নাগরিক অধিকার খর্ব হওয়া এবং মহামারির লাগাম টানতে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার অভিযোগ দেশটির জনগণকে বিক্ষুব্ধ করে তুলেছে। যার বহিঃপ্রকাশ রোববারের বিক্ষোভ। কয়েক দশকের মধ্যে এটাই কিউবায় সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেলের পদত্যাগ দাবি করছেন।

দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন