বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে চিলিতে কয়েক মাস ধরে বিক্ষোভ হয়েছে। এরপর প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট হচ্ছে। এই ভোটের কারণে অবশেষে সংবিধান সংস্কারের পথ তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটির কয়েক দশকের পুরোনো সংবিধান তৈরির চেষ্টা এখন চলমান।

ট্রেসকুইনটোস নামের একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক কেনেথ বাংকার বলছেন, ‘আমরা এখানে শীতল যুদ্ধের বৃত্তে আটকে থাকা কমিউনিজম বনাম ফ্যাসিবাদের মধ্যে বিতর্ক দেখতে পাচ্ছি। এটা বাম বনাম ডানের পুরোনো সেই বিভাজন। এমন পরস্পরবিরোধী অবস্থান ও মেরুকরণ কিছু ভোটারকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে।’

কীভাবে ভোট হয়?

নভেম্বরের মাঝামাঝি চিলিতে প্রথম রাউন্ডের ভোট হয়েছে। ওই নির্বাচনে জাতীয় কংগ্রেস এবং আঞ্চলিক পরিষদের সদস্যদের নির্বাচন করেন দেশটির ভোটাররা। এরপর সেখানে এগিয়ে থাকা দুজন ১৯ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এ ভোটে চিলির মানুষ তাদের নতুন প্রেসিডেন্টকে বেছে নেবেন। স্থানীয় সময় সকাল আটটায় ভোট শুরু হবে। ভোটগ্রহণ শেষ হবে সন্ধ্যা ছয়টায়। রোববার সন্ধ্যায় বা রাতের মধ্যে ভোটের ফল আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচনে লড়ছেন কারা?

দুই প্রার্থীর মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ অ্যান্তোনিও কাস্ত। বয়স ৫৫ বছর। সাবেক এ কংগ্রেস সদস্য অতি ডানপন্থী হিসেবে পরিচিত। মতামত জরিপে তিনি গ্যাব্রিয়েল বোরিকের চেয়ে অবশ্য কিছুটা পিছিয়ে রয়েছেন। ৩৫ বছরের বোরিক সাবেক ছাত্রনেতা। বামপন্থী একটি জোটের প্রার্থী হয়ে তিনি এবার লড়ছেন।
গত নভেম্বরের প্রথম রাউন্ডের নির্বাচনে সাতজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ছিলেন। ফলে এবার কে প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন, তা নির্ধারণ করবেন মূলত মধ্যপন্থী ভোটাররা।

কে এগিয়ে

মতামত জরিপ তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। নির্বাচনপূর্ব জরিপে বোরিচ কিছুটা এগিয়ে আছেন। অপর দিকে প্রথম রাউন্ডের ভোটে কাস্ত ছিলেন শীর্ষে। জরিপে দেখা দেখা যাচ্ছে, মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা ভোটাররা কাস্তের চেয়ে বোরিচের দিকে বেশি ঝুঁকে রয়েছেন। এরপরও ব্যবধান হবে সামান্য। তবে ইতিহাস আবার বোরিচের বিপক্ষে। ১৯৯৯ সাল থেকে চিলির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথম রাউন্ডের ভোটে জয়ী ব্যক্তিরা দ্বিতীয় রাউন্ডেও জয়লাভ করেছেন।

প্রধান ইস্যুগুলো কী?

চিলির অনেক মানুষ মুক্তবাজার অর্থনীতির সমর্থক, যা কপার ধাতুতে সমৃদ্ধ এই দেশের কয়েক দশকের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে। এর মাধ্যমে লাতিন আমেরিকায় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে চিলি। তবে অনেক মানুষ গভীর অর্থনৈতিক বৈষম্য ঠেকাতে মরিয়া। প্রতিনিয়ত এ সংখ্যা বেড়ে চলেছে। যেসব দাবি নিয়ে মানুষ সবচেয়ে বেশি উচ্চকিত, তার অন্যতম একটি অবসরকালীন আংশিক ভাতা। সমালোচকেরা এর জন্য চিলির পেনশন ব্যবস্থার উচ্চমাত্রায় বেসরকারীকরণকে দায়ী করে থাকেন। অন্যরা আবার উচ্চমূল্য, অনিশ্চিত বেসরকারি শিক্ষা, বেসরকারি ও সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পার্থক্য নিয়ে সমালোচনায় মুখর।

দেশটির রক্ষণশীল ভোটাররা চিলিতে প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা অভিবাসীদের নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। এ ছাড়া আইন ও শৃঙ্খলা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে মানুষের।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যে–ই জিতুন না কেন, তাঁকে গণভোটের মুখে পড়তে হবে। নতুন যে সংবিধান তৈরি হয়েছে, সেটা গৃহীত হবে কি না, তা জানার জন্য এ গণভোট হবে। প্রথম বছরেই এটির অনুমোদন কিংবা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নিতে হবে সরকারকে। সংবিধান সংস্কারে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাম ও স্বতন্ত্র এমপি নিয়ন্ত্রিত পরিষদ। তথ্যসূত্র: রয়টার্স

লাতিন আমেরিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন