default-image

বলিভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস প্রায় এক বছর আর্জেন্টিনায় নির্বাসনে কাটিয়ে সোমবার দেশে ফিরেছেন। প্রায় ১৪ বছর বলিভিয়ায় শাসন করা মোরালেস নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগে গত বছরের ১১ নভেম্বর দেশ ছেড়ে পালান। তিনি নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ২০১৯ সালের নির্বাচনে নিজেকে জয়ী দাবি করেন। দেশ ছাড়ার আগে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বলিভিয়া থেকে পালিয়ে কয়েক দিন মেক্সিকোতে থাকার পর তিনি ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে বুয়েনস এইরেসে থাকতে শুরু করেন। কয়েক মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ১৮ অক্টোবর বলিভিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। এই নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছেন তাঁর দল মুভমেন্ট ফর সোশ্যালিজম (এমএএস) পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী লুইজ আরসে। তিনি মোরালেস সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন। লুইজ আরসে গত রোববার বলিভিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে মোরালেস বলেছিলেন, তাঁর দল জয়ী হলে দেশে ফিরবেন তিনি। গত ২৭ অক্টোবর বলিভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের বিরুদ্ধে থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করা হয়েছে। দেশটির একটি আদালত এই পরোয়ানা বাতিল করেন। রাষ্ট্রদ্রোহ ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে গত বছর মোরালেসের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে মোরালেস বলেছিলেন, তাঁর দল জয়ী হলে দেশে ফিরবেন তিনি।

মোরালেসের বিরুদ্ধে থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল হওয়ায় পর তাঁর দেশে ফেরার পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়।

মোরালেস বলিভিয়া ছাড়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়। দায়িত্ব নিয়ে এই সরকারের প্রধান বলেছিলেন, মোরালেসের বিচারের মুখোমুখি হওয়া উচিত। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিতর্কিত নির্বাচনের পর মোরালেস অশান্তি সৃষ্টি করেন। ওই সময় সংঘটিত সংঘর্ষ-সহিংসতায় বেশ কিছু মানুষ হতাহত হয়েছিল।

সে সময় সরকারি কৌঁসুলিরা রাষ্ট্রদ্রোহ ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে মোরালেসের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মোরালেস তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক বলে বর্ণনা করেন। মোরালেস শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন, তিনি কোনো অপরাধ করেননি। মোরালেসের বিশ্বাস, তাঁর বিরুদ্ধে থাকা সব ফৌজদারি অভিযোগ একসময় খারিজ হয়ে যাবে।

মোরালেস আর্জেন্টিনা থেকে বলিভিয়ায় ফেরার সময় বলেছেন, ‘যখন আমি দেশ ছাড়ি, আমি বলেছিলাম, আমরা ফিরব, আমরা লাখো ছাড়িয়ে যাব। এখন আমরা লাখো হয়ে ফিরেছি।’

বলিভিয়ায় দারিদ্র্য কমানো এবং দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য মোরালেসকে কৃতিত্ব দেওয়া হলেও নির্বাচন কারচুপির অভিযোগে তাঁর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ে। দেশটি করোনাভাইরাসে এখন মারাত্মকভাবে ভুগছে। দেশটির অর্থনীতিও হিমশিম খাচ্ছে। বেকারত্ব বেড়ে গেছে। এ বছর মোট দেশজ উৎপাদন ৮ শতাংশ কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ।

মন্তব্য পড়ুন 0