default-image

গুয়াতেমালায় নতুন বাজেটের বিরুদ্ধে কংগ্রেস ভবনে বিক্ষোভকারীদের অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী আচরণ’ বলছে দেশটির সরকার। এদিকে বিক্ষোভকারীদের দমনে পুলিশের আচরণকে ক্ষমতার অপব্যবহার বলে নিন্দা জানিয়েছে দ্য ইন্টার-আমেরিকান কমিশন অন হিউম্যান রাইটস (আইএসিএইচআর)।

আল–জাজিরার গতকাল রোববারের খবরে জানা যায়, স্থানীয় সময় গত শনিবার কংগ্রেস অব দ্য রিপাবলিক অব গুয়াতেমালার ভবনের একটি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভকারীরা। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়ে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে এবং লাঠিপেটা করে। পরে ন্যাশনাল প্যালেসের সামনে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়। কয়েকজন বিক্ষোভকারী বাসস্টেশনে ভাঙচুর চালায়।

আইএসিএইচআর স্থানীয় সময় গতকাল টুইটে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের ক্ষমতার অপপ্রয়োগের ঘটনার নিন্দা জানায়। সংস্থাটি এ ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

আইএসিএইচআর বলছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের প্রতি সরকারের সহনশীল আচরণ করা উচিত। তবে সহিংস বিক্ষোভ হলে সরকারের উচিত দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গুয়াতেমালার প্রেসিডেন্ট আলেজান্দ্রো গিয়ামাতেই নতুন যে বাজেটের অনুমোদন দিয়েছেন, তাতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে। আইনপ্রণেতারা নিজেদের জন্য ৬৫ হাজার ডলার অনুমোদন দিয়েছেন। তবে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগীদের ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জন্য তহবিল বরাদ্দ কমিয়েছে।

গুয়াতেমালার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গেন্দ্রি রেয়েস বলেন, একদল মানুষ সন্ত্রাসী আচরণ করেছে।

বিক্ষোভকারীদের একজন মনোবিজ্ঞানের শিক্ষক রোজা দ্য চাভার বাজেটের সমালোচনা করে বলেন, এভাবে তারা জনগণের অর্থ ছিনিয়ে নিচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুরিসিও রামিরেজ বলেন, ‘আমি মনে করি, আমাদের ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’

অগ্নিসংযোগের ফলে কংগ্রেস ভবনে কতটা ক্ষতি হয়েছে তা জানা যায়নি। টুইটে প্রেসিডেন্ট গিয়ামাতেই বলেন, কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে আইনি উপায়ে তাকে দমন করা হবে।

বাজেটের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট গুইলারমো কাস্তিলো। তিনি বলেছেন, দেশের ভালোর জন্য তাঁর এবং প্রেসিডেন্ট গিয়ামাতেইয়ের একসঙ্গে পদত্যাগ করা উচিত।

প্রেসিডেন্ট অবশ্য বলেছেন, বাজেটে বদল আনতে তিনি বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

আল–জাজিরা

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন