default-image

ব্রাজিলের মানাউস শহরে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেনের স্বল্পতা ও কর্মীদের অভাব রয়েছে। ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বে আমাজোনাস অঞ্চলের ওই শহরে সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েছে।

বিবিসির আজ শুক্রবারের খবরে জানা যায়, স্থানীয় গণমাধ্যমে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্কতা জারি করে বলেছেন, অক্সিজেনের স্বল্পতায় অনেক মানুষের মৃত্যু হতে পারে।
বিশ্বে করোনা সংক্রমণের দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই ব্রাজিলের অবস্থান। দেশটিতে ২ লাখ ৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে করোনায়।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রথম ঢেউয়ে আমাজন অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। করোনার নতুন ধরনও ছড়িয়ে পড়ে এই এলাকায়।

বিজ্ঞাপন

ফিওক্রুজ-আমাজোনিয়া সায়েন্টিফিক ইনভেস্টিগেশন ইনস্টিটিউটের গবেষক জেসাম ওরেলেনা এএফপিকে বলেন, মানাউসের কিছু হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ শেষ হয়ে গেছে। হাসপাতালের কয়েকটি কেন্দ্রে রোগীদের দমবন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে।

জেসাম ওরেলেনা ব্রাজিলের গণমাধ্যমকে বলেন, হাসপাতালগুলোর ভয়ংকর অবস্থার খোঁজ তিনি পেয়েছেন।

ব্রাজিলের ‘ফলহা দ্য সাও পাওলো’ পত্রিকার খবরে জানানো হয়, হাসপাতালের কর্মীরা ম্যানুয়াল ভেন্টিলেশন ব্যবহার করে রোগীদের বাঁচিয়ে রাখতে চেষ্টা করছেন।

একজন নারী চিকিৎসাকর্মী ইন্টারনেটে প্রচারিত ভিডিওতে সাহায্যের জন্য আবেদন জানান। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের একটি ইউনিটের অক্সিজেন শেষ হয়ে গেছে।’ ওই ভিডিও ক্লিপে তিনি বলেন, ‘কোনো অক্সিজেন নেই। অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। যদি কারও কাছে অক্সিজেন থাকে, তাহলে ক্লিনিকে নিয়ে আসুন। অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে।’

আমাজোনাসের গভর্নর উইলসন লিমা বলেছেন, মহামারির কারণে ওই রাজ্যে জরুরি অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয় সময় আগামীকাল শনিবার সন্ধ্যা সাতটা থেকে সারা রাত কারফিউ জারি করা হবে।

‘কোনো অক্সিজেন নেই। অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। যদি কারও কাছে অক্সিজেন থাকে তাহলে ক্লিনিকে নিয়ে আসুন। অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে।
ভিডিও ক্লিপে নারী চিকিৎসাকর্মী

ব্রাজিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট টুইটে বিমানবাহিনী হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও স্ট্রেচার নিয়ে যাচ্ছে, এমন ছবি পোস্ট করেন।

রয়টার্সের এক খবরে জানানো হয়, স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য অনেক রোগীকে বিমানে অন্য রাজ্যে নিয়ে যাচ্ছেন।

ব্রাজিলের সরকারি ওসওয়ালদো ক্রুজ ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক ফিলিপ নেভেকা বলেন, করোনার নতুন ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন
দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন