বলসোনারোর বিরুদ্ধে এ নিয়ে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ চলছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বলসোনারোর ব্যর্থতা নিয়ে পার্লামেন্টারি তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। করোনা সংক্রমণে ব্রাজিলে এ পর্যন্ত পাঁচ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
রিও ডি জেনিরোর বিক্ষোভে অংশ নেন চিকিৎসক লিমা মেন্ডেস। করোনাভাইরাসের সংক্রমণে এত বেশি মৃত্যু হওয়ায় ব্রাজিলের সরকারকে দোষারোপ করেন তিনি।
লিমা মেন্ডেস এএফপিকে বলেছেন, এই সরকার টিকা নিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত, ভুয়া সংবাদ, মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। সরকারের দুর্নীতির কারণে ব্রাজিলে পাঁচ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
সাও পাওলো, বেলেম, রেসিফাই, মাসিও শহরে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ‘বলসোনারোর গণহত্যা’, ‘অভিশংসিত বলসোনারো’ এবং ‘টিকাকে হ্যাঁ বলুন’ প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
প্রথম দুই মাসের শুনানিতে পার্লামেন্টারি প্যানেলে বলসোনারো সরকারের দেরিতে টিকা সরবরাহের নির্দেশ, হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের মতো অকার্যকর ওষুধের ব্যবহারকে উৎসাহিত করা, মাস্ক পরা বা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার নির্দেশনা না দেওয়া নিয়ে আলোচনা হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা লুইস রিকাডোর মিরান্ডা বলেন, অন্যান্য টিকার তুলনায় আরও বেশি দামে কোভ্যাক্সের ৩০ লাখ ডোজ টিকা কেনার অনুমোদন দিতে তিনি চাপের সম্মুখীন হয়েছিলেন। মিরান্ডা বলেন, তিনি বলসোনারোকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। বলসোনারো বলেছিলেন, তিনি বিষয়টি রাষ্ট্রীয় পুলিশকে জানাবেন। তবে তিনি তা করেননি।
কারচুপির বিষয়ে ব্যবস্থা না নিয়ে বলসোনারো কোনো অপরাধ করেছেন কি না, সে বিষয়ে আগামী শুক্রবার রাষ্ট্রীয় আইনজীবীরা তদন্ত করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। টিকা কেনার ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তাকে ঘুষ দিতে চেয়েছিলেন—এক ব্যবসায়ীর এমন দাবির বিষয়েও তদন্ত হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা ব্যবসায়ীর দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
২০১৯ সালে ব্রাজিলে ক্ষমতায় আসেন বলসোনারো। দুর্নীতির সব অভিযোগ তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।