default-image

ব্রাজিলে তরুণদের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার বাড়ছে। চলতি বছর দেশটিতে তরুণদের মৃত্যুর সংখ্যাও বেশ বেড়েছে। দেশটির সরকারি বায়োমেডিকেল ইনস্টিটিউট ফিউক্রোজ গতকাল শুক্রবার এ–সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ওই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানায়, চলতি বছরের শুরু থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত কোভিড-১৯–এ আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণের সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে ১ হাজার শতাংশের বেশি। আর ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুর হার বেড়েছে ৮১৯ শতাংশ। ৪০-৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এ হার বেড়েছে ৯৩৩ শতাংশ।
খুবই ধীরগতিতে টিকা কর্মসূচি, দেশজুড়ে সামঞ্জস্যহীন বিধিনিষেধ ও ভাইরাসের অতি সংক্রামক নতুন ধরন—এসব কারণে এ বছর ব্রাজিলে জেঁকে বসেছে করোনা।
ফিউক্রজ জানায়, তরুণদের মৃত্যুর হার বাড়ার পেছনে সম্ভাব্য কারণ ঢিলেঢালা বিধিনিষেধ অথবা অবসন্নতা থেকে হতে পারে। এ ছাড়া জীবিকার সন্ধান, গভীর অর্থনৈতিক সংকট ও বেকারত্বের হারও আরেকটি কারণ হতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

বিজ্ঞাপন

কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশে করোনার মধ্যে বেশি ছোঁয়াচে এই ধরন ছড়িয়ে পড়ছে। আর এবার এই ভাইরাসের শিকার হয়ে তরুণদের বেশি হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে। অথচ এই মহামারির শুরুর দিকে বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের গড় বয়স প্রায় ৫৮। বছরের শুরুর দিকে ভর্তি হওয়া রোগীদের গড় বয়স ছিল ৬২ বছর। আর জানুয়ারিতে যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের গড় বয়স ছিল ৭২ বছর। এখন মারা যাওয়া ব্যক্তিদের গড় বয়স ৬৫।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ব্রাজিলের পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ। ১৪টি রাজ্য ও ফেডারেল ডিস্ট্রিক্টের ৯০ শতাংশ আইসিইউ শয্যায় রোগী। তবে ৭টি রাজ্যে এ সংখ্যা ৮০ থেকে ৮৯–এর মধ্যে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের তথ্য নিয়মিত হালানাগাদকারী ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য অনুযায়ী, আজ রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত ব্রাজিলে করোনায় ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৬২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর করোনা শনাক্ত হয়েছে মোট ১ কোটি ৪২ লাখ ৩৮ হাজার ১১০ জনের। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ কোটি ২৭ লাখ ১১ হাজার ১০৩ জন।

দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন