default-image

করোনাভাইরাস মহামারিতে ব্রাজিলে মাসিক জরুরি বরাদ্দ শেষ হলে দেড়কোটি মানুষ আবার দারিদ্র্যের মুখে পড়তে পারে। দেশটির ৬ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল। কর্মসূচির আওতায় এসব মানুষকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হতো।

বিবিসির খবরে জানা যায়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফান্ডা য়ো গেটুলিও ভারগাস (এজিভি) বলছে, করোনা সংকটে অর্ধকোটির কম মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে। দারিদ্র্য মোকাবিলায় ব্রাজিল সরকার জরুরি তহবিল বরাদ্দ প্রকল্প আংশিক  চালু রাখতে চায়। তবে এর ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

জরুরি বরাদ্দের কর্মসূচি চালু রাখতে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জায়ের বলসনারোর প্রচেষ্টা কংগ্রেসে স্থবির। দেশটিতে বাজেট ঘাটতির মধ্যে কীভাবে তহবিল বরাদ্দ করা যায়, তা নিয়ে তাঁর সমর্থকদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সরকারি হিসাব বলছে, ব্রাজিলের ৪৪ শতাংশ পরিবার জরুরি তহবিল পেয়েছে। তাদের বেশির ভাগই উত্তর ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের। দেশটির এসব অঞ্চলে দারিদ্র্য বেশি।
ব্রাজিলের সামনের সারির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এফজিভির সামাজিক নীতিবিষয়ক প্রধান ও অর্থনীতিবিদ মার্সেলো নেইরি বলেন, দেড় কোটি মানুষের দারিদ্র্যে ফিরে আসাটা সরকারি হিসাব। ব্রাজিলে করোনাভাইরাসের সময় এ কর্মসূচি নেওয়া হয়। কিন্তু দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো বলার মতো সময় আসেনি। এ কর্মসূচি কাজ করছে কি না, তা জানতে আরও এক বছর লাগবে। দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করা মানুষ তাঁরাই যাঁদের প্রতিদিনের আয় ১ ডলার ৯০ সেন্টের কম।

ব্রাজিলে সম্প্রতি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে দেশটিতে বেকারত্বের হার বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশটি তীব্র মন্দার মুখে পড়তে পারে।
ব্রাজিলের জনসংখ্যা ২১ কোটি ২০ লাখ। দেশটিতে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে ব্যাপকভাবে। ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, দেশটিতে করোনায় সংক্রমিত হয়েছে ৫০ লাখ মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজারের কাছাকাছি। সরকারি হিসাব বলছে, ব্রাজিলে নারী ও কৃষ্ণাঙ্গরা করোনায় বেশি সংক্রমিত।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বলসনারো করোনায় সংক্রমিত হয়ে সুস্থ হন। করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে ভূমিকার জন্য বলসনারো ব্যাপকভাবে সমালোচিত হন। শুরুর দিকে তিনি এটিকে ‘সাধারণ সর্দিজ্বর’ বলেন। সামাজিক দূরত্বসহ বিশেষজ্ঞদের স্বাস্থ্যবিধির পরামর্শও মানেননি তিনি।

মন্তব্য করুন