default-image

ভারত বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাক্সিন টিকার জরুরি অনুমোদন নিয়ে নিজ দেশে সমালোচনা থাকলেও ব্রাজিলের একটি ওষুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এ টিকা নিতে চুক্তি করেছে। ভারত বায়োটেক আজ মঙ্গলবার দাবি করেছে, কোভ্যাক্সিন টিকা নিতে ব্রাজিলভিত্তিক ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান প্রিসিসা মেডিসামেন্টোস তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছে।

ভারত সরকার নিয়োজিত বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সুপারিশের পর দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ডিসিজিআই) ৩ জানুয়ারি ভারত বায়োটেকের ‘কোভ্যাক্সিন’ ও সিরাম ইনস্টিটিউটের ‘কোভিশিল্ড’ টিকার জরুরি অনুমোদন দেয়।

তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং বিরোধী আইন প্রণেতারা টিকার কার্যকারিতা বিষয়ক যথেষ্ট তথ্য না থাকায় কোভাক্সিনের অনুমোদন নিয়ে সমালোচনা করছেন। এখনো টিকাটির কার্যকারিতার পরীক্ষা চলছে।

ভারত বায়োটেক বলছে, তারা কোভাক্সিন টিকা দিতে প্রিসিসা মেডিসামেন্টোসের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে।

ভারতীয় প্রতিষ্ঠানটির এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ব্রাজিল সরকারের সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় কোভ্যাক্সিন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাজারে আনতে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ভারত বায়োটেক হায়দরাবাদভিত্তিক একটি ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান। তারা ভারতের ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চের (আইসিএমআর) সঙ্গে দেশীয় পদ্ধতিতে কোভ্যাক্সিন নামের টিকা তৈরি করেছে। ভারত বায়োটেকের ভাষ্য, ব্রাজিলের কর্তৃপক্ষ টিকাটির অনুমোদন দেওয়ার ওপর এটি বেসরকারি পর্যায়ে বাজারে সরবরাহের বিষয়টি নির্ভর করছে।

কোভ্যাক্সিন টিকাটি তিনটি ট্রায়াল ধাপের মধ্যে দুটি সম্পন্ন করেছে। এখন টিকাটির তৃতীয় বা চূড়ান্ত ধাপের ট্রায়াল চলছে। টিকাটির তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল গত নভেম্বরে শুরু হয়। ভারতে কোনো টিকার তৃতীয় পর্যায়ের সবচেয়ে বড় ট্রায়াল চালানোর কথা জানিয়েছে ভারত বায়োটেক। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, আগামী মার্চ মাসে এই ট্রায়ালের প্রাথমিক ফলাফল পাওয়া যাবে।

তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালে টিকার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু কোভ্যাক্সিন টিকার কার্যকারিতার তথ্যের ঘাটতি থাকা অবস্থায় তা ভারতে জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পেল।

করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর থেকে ব্রাজিলে ৮০ লাখের বেশি মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন। দেশটিতে করোনা সংক্রমণের শিকার হয়ে মারা গেছেন ২ লাখ ৩ হাজারের বেশি মানুষ। করোনা সংক্রমণে বিশ্বে মৃত্যুর দিক থেকে ব্রাজিল দ্বিতীয়।

করোনার টিকা পেতে ব্রাজিল ইতিমধ্যে আরও চুক্তি করেছে। সেখানকার কর্তৃপক্ষ দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি চালুর ব্যাপারে চাপে রয়েছে। তারা দক্ষিণ আমেরিকার অন্য দেশের চেয়ে টিকাদান কর্মসূচিতে পিছিয়ে রয়েছে। তাদের চেয়ে মেক্সিকো, চিলি ও আর্জেন্টিনা এগিয়ে রয়েছে।

মন্তব্য করুন