default-image

ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা হুয়াইন গুয়াইদোর বিরুদ্ধে বিচার শুরু করার জন্য দেশটির সাংবিধানিক অ্যাসেম্বলিতে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির শাসকগোষ্ঠী সোশ্যালিস্ট পার্টি নিয়ন্ত্রিত অ্যাসেম্বলিতে প্রস্তাবটি পাস করা হয়। এর মাধ্যমে গুয়াইদোকে গ্রেপ্তারে শাসক দল এক ধাপ এগোল বলে মনে করা হচ্ছে। রয়টার্সের খবরে এ কথা জানানো হয়।

এর আগে গত মাসের শেষ দিকে হুয়ান গুয়াইদোকে ১৫ বছরের জন্য সব ধরনের সরকারি কার্যালয় থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। গুয়াইদোর ব্যক্তিগত আর্থিক হিসাবে অসংগতি থাকায় এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে জানান দেশটির অর্থ নিয়ন্ত্রক এলভিস আমোরোসো।

গুয়াইদো নিয়ন্ত্রিত জাতীয় অ্যাসেম্বলি গত জানুয়ারি মাসে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর নির্বাচনকে ভুয়া দাবি করে দেশটির সংবিধানে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্সির আহ্বান জানায়। গুয়াইদো নিজেকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। গুয়াইদোকে বৈধ নেতা হিসেবে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ ৫০টিরও বেশি দেশ।

গুয়াইদো একজন আইনপ্রণেতা হওয়ায় তাঁর পার্লামেন্টারি সুরক্ষা রয়েছে। আর দশজন সাধারণ নাগরিকের মতো তাঁর বিচার শুরু করা সহজ নয়। তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য অ্যাসেম্বলির এই আদেশের প্রয়োজন ছিল।


অ্যাসেম্বলির প্রধান ও সোশ্যালিস্ট পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট দিয়োসদাদো ক্যাবেল্লো বলেন, হুয়ান গুয়াইদোর বিচারের জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

এ ঘোষণার পর গুয়াইদো এক প্রতিক্রিয়ায় রাজধানী কারাকাসের পূর্বাঞ্চলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আমাদের দায়িত্ব থেকে পালাব না। তারা ভেবেছে, কাজটি খুব সহজ হবে। তবে তা হবে না। তারা এগোতে চাইলে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।’

গত সোমবার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট গুয়াইদোর দেশ ছেড়ে কোথাও যাওয়ার ব্যাপারে আগের নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন। ভেনেজুয়েলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলির কার্যালয় জানুয়ারি মাসে ‘সহিংসতার ঘটনায়’ গুয়াইদোর সম্পৃক্ততা নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তবে তাঁকে আটক করার কোনো নির্দেশ দেয়নি বা তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনেনি।

সংবিধানবিষয়ক আইনজীবী হোসে ভিসেন্তে হারো গুয়াইদোর বিরুদ্ধে বিচার শুরুর প্রস্তাব পাসের সিদ্ধান্তকে ‘সাংবিধানিক ভণ্ডামি’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, আইনপ্রণেতাদের অনুমোদন ছাড়া গুয়াইদোর বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। এতে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করা হয়েছে। কারণ, গুয়াইদোকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে।

মাদুরো বলেন, গুয়োইদোর ‘সুষ্ঠু বিচারের’ মুখোমুখি হতে হবে। তিনি গুয়াইদোকে ক্যু কারবারি ও যুক্তরাষ্ট্রের হাতের পুতুল বলে উল্লেখ করেছেন।

গুয়াইদোর আন্তর্জাতিক সমর্থকেরা বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলাকে হুমকি দিয়ে বলেছে, গুয়াইদোকে স্পর্শ করলে মাদুরোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে, বৈদেশিক অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়া হবে।

গত মার্চে গুয়াইদোর বাহিনী প্রধান রবার্তো মারেরিওকে (৪৯) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে কর্মকর্তাদের প্রতি ‘অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। মারেরিওকে গ্রেপ্তার করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড় ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলো তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0