default-image

নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগে ভেনেজুয়েলার ১৯ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, আইনপ্রণেতা ও সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। গতকাল সোমবার ওই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বলা হয়, গত বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পক্ষে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ রয়েছে এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মাদুরোর মিত্ররা প্রায় সব আসনেই জয় পান। বিরোধী দলগুলোর বর্জন সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলার নির্বাচনে ক্ষমতাসীন সমাজবাদী প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো আরও অবস্থান সুদৃঢ় করেন। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির নির্বাচনে আরও ক্ষমতা নিজের আয়ত্তে নেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুয়াইদোর সঙ্গে মাদুরোর ক্ষমতার দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করে। যুক্তরাষ্ট্রসহ ৬০টির বেশি দেশ হুয়ান গুয়াইদোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ নেতা হিসেবে বিবেচনা করে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাইডেনের ক্ষমতা গ্রহণের পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন মাদুরো।

এর মধ্যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মন্ত্রীরা গতকাল ভেনেজুয়েলার ১৯ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার কথা জানান। এর আগেও ভেনেজুয়েলার বেশ কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় মোট ৫৫ জনের নাম উঠল।

দুই বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইইউ মাদুরোর ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা জারি করে আসছে। তাদের যুক্তি, ২০১৮ সালের প্রেসিডেন্ট পুনর্নির্বাচন ছিল লজ্জাজনক।

ইইউর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন যাঁদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে, তাঁরা বিরোধী দলের নির্বাচনী অধিকার ও গণতান্ত্রিক কার্যক্রম ক্ষুণ্ন করার দায়ে অভিযুক্ত।

এ ছাড়া মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মৌলিক স্বাধীনতার পথেও তাঁরা বাধার সৃষ্টি করেছে।

এদিকে, ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী টুইটারে বলেছেন, সম্মানীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা যুক্তি দিয়ে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ভেনেজুয়েলায় সরকার পরিবর্তনের জন্য ইইউর জোর করে চাপানো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না হওয়ার ফলে এটি হতাশার লক্ষণ।

দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন