ইকুয়েডরে উৎপাদিত কলার বেশির ভাগই যায় রাশিয়ায়। ইকুয়েডর বছরে ৬৯ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের কলা রপ্তানি করে থাকে দেশটিতে। প্রতি সপ্তাহে সাধারণত ২০ লাখ বাক্স কলা যায় সেখানে। কিন্তু ইউক্রেনে হামলা করায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ফলে ইকুয়েডরের কলা যাচ্ছে না রাশিয়ায়।

ইউক্রেনের থালিয়া কলাবাগানের মালিক মিরেয়া ক্যারেরা (৬২) বলেন, ‘কলা উৎপাদনকারীরা শেষ হয়ে গেছেন। আমি তিন সপ্তাহ ধরে এক বাক্স কলাও বিক্রি করতে পারিনি। কাউকে বরখাস্ত না করলেও কর্মীরা নিজে থেকেই চলে যাচ্ছেন। আমি তাঁদের খরচ জোগাতে পারছি না।’

কলা উৎপাদনকারীরা শেষ হয়ে গেছেন। আমি তিন সপ্তাহ ধরে এক বাক্স কলাও বিক্রি করতে পারিনি। কাউকে বরখাস্ত না করলেও কর্মীরা নিজে থেকেই চলে যাচ্ছেন। আমি তাঁদের খরচ জোগাতে পারছি না
মিরেয়া ক্যারেরা, ইউক্রেনের কলা ব্যবসায়ী

মিরেয়া ক্যারেরার ২৮ হেক্টর জমিতে কলাবাগান রয়েছে। সপ্তাহে তিন কনটেইনার করে কলা রপ্তানি করতেন তিনি। প্রতি কনটেইনারে ৩ হাজার ২০ কেজির বাক্স থাকত। এএফপিকে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এখন ৭ হাজার কাঁদি কলা রয়েছে। কিন্তু কোনো ক্রেতা নেই।’

কমে গেছে কলার দাম

ইকুয়েডরের কলা খাত বিপর্যয়ের মুখে। কলার দাম কমে গেছে ব্যাপকভাবে। ফ্র্যাঙ্কলিন তোরেস বলেন, এক বাক্স কলা উৎপাদনে সাড়ে ৫ মার্কিন ডলার খরচ হয়। দাম পাওয়া যায় ৬ দশমিক ২৫ মার্কিন ডলার। কিন্তু এখন এক বাক্স কলায় ২ ডলারের কম পাওয়া যাচ্ছে। কখনো কখনো এক ডলার বা ১ দশমিক ২০ মার্কিন ডলারেও এক বাক্স বিক্রি করতে হচ্ছে।

তোরেস বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে কলার যে দাম পাওয়া যাচ্ছে, তা দুঃখজনক। এতে কলা বাছাই করার খরচও উঠছে না।’

কলা উৎপাদনকারী ফেডারেশনের সভাপতি ফ্র্যাঙ্কলিন তোরেস আরও বলেন, গত তিন সপ্তাহে ইকুয়েডরের কলাচাষিরা ১ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রতিবছরই কম দামের সমস্যায় পড়লেও এখন কলা বিক্রি করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এগুলো বিলিয়ে দেওয়ার মতো অবস্থা দাঁড়িয়েছে।

কলার বাণিজ্যিকীকরণ ও রপ্তানি নিয়ে কাজ করা অ্যাকোরব্যানেক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রিচার্ড সালাজার বলেন, ইকুয়েডরের কলার পরিস্থিতি দেখে অন্যান্য দেশও কলার দাম কমাতে শুরু করেছে।

কলা রপ্তানিকারকদের সংগঠন এইবিই অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক হোসে আন্তোনিও হিডালগোর মতে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনের কলার একটি নতুন বাজার প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত মাসে প্রায় ১০ লাখ বাক্স কলা অবিক্রীত রয়ে গেছে।

অভ্যন্তরীণ দাম কমে যাওয়ায় ও বিক্রি না হওয়ায় কলা ব্যবসায়ী ইউনিয়ন তাদের স্থানীয় খাদ্য কর্মসূচিতে কলা দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইকুয়েডরে ১ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর কলাবাগান রয়েছে। গত বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের কলা বিক্রি করে দেশটি। সেখানে ২৬০টির বেশি কলা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

কলাশিল্প ইকুয়েডরে প্রত্যক্ষভাবে ৫০ হাজার ও পরোক্ষভাবে আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। অ্যাকোরব্যানেকের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইকুয়েডরে ৬ হাজার ব্যক্তি তাঁদের স্থায়ী চাকরি হারিয়েছেন।

ইউক্রেনের কলা উৎপাদনকারীরা গত সপ্তাহ থেকে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। তাঁরা চাইছেন, সরকার খাদ্য কর্মসূচির জন্য কলা কিনে তাঁদের সাহায্য করুক। প্রেসিডেন্ট গুইলারমো লাসো বলেছেন, এ প্রস্তাব বাস্তবসম্মত নয়। বিশ্বের অন্যান্য বাজারে কলা বিক্রির জন্য চেষ্টা করতে হবে।

কিন্তু রিচার্ড সালাজারের মতে, ইকুয়েডরের কলার অন্য বাজার খোঁজা অসম্ভব। বিশ্বের আর কোনো বাজার নেই, যা রাশিয়ার মতো কলা কিনতে পারে।

লাতিন আমেরিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন