বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পর্বতঘেরা সামরিক একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অর্কেস্ট্রায় প্রায় ১২ হাজার শাস্ত্রীয় শিল্পী একযোগে বাজাতে শুরু করেন। তাঁদের নির্দেশনা দেন ৩৪ বছর বয়সী আন্দ্রেস দাবিদ অ্যাসকানিও। পরিবেশনা শুরু হওয়ার আগে তিনি সবাইকে উদ্বুদ্ধ করে বলেন, ‘বাদ্যযন্ত্রের স্ট্রিং ভেঙে যাক, তারপরও থেমে যাবেন না। হৃদয় দিয়ে বাজিয়ে যাবেন, থেমে যাবেন না।’

এরপর সাদা শার্ট পরিহিত তরুণ বাদকেরা অর্কেস্ট্রা পরিবেশনা শুরু করেন। তাঁদের সুরের মূর্ছনায় যেন বিমোহিত হচ্ছিল পাখিরাও। মাঝেমধ্যেই তাঁদের মাথার ওপর দিয়ে ম্যাকাও পাখিকে উড়ে যেতে দেখা যাচ্ছিল।

১২ মিনিট ধরে চলা ওই পরিবেশনা পর্যবেক্ষণ করেছেন প্রায় ২৬০ নিরীক্ষক। প্রত্যেক শিল্পী নিয়ম অনুযায়ী বাজাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে ছিলেন তাঁরা। নিয়মগুলোর একটি ছিল, একই যন্ত্র একাধিক বাদক মিলে ভাগাভাগি করে বাজাতে পারবেন না এবং নম্বর নিশ্চিতের জন্য কমপক্ষে একটানা পাঁচ মিনিট বাজিয়ে যেতে হবে তাঁদের।

অর্কেস্ট্রায় অংশ নিয়েছিলেন ২১ বছর বয়সী ভায়োলিনবাদক এরনেস্তো লাগুনা। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘জীবনে প্রথমবারের মতো পর্দায় দেখা যাওয়া নির্দেশকের ইশারায় পরিবেশনা করেছি। তবে আমরা বেশ ভালোই মানিয়ে নিতে পেরেছি।’
রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ভেনেজুয়েলায় সরকারি অনুদানে চলা এল সিস্তেমা কর্মসূচির আওতায় অর্কেস্ট্রাশিল্পীদের সমবেত করার আয়োজনটি করা হয়েছিল। এটি দ্য সিস্টেম নামেও পরিচিত। ১৯৭৫ সালে এ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। আর তখন থেকে এর আওতায় হাজারো শ্রমজীবী পরিবারের শিশুদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

গিনেস বিশেষজ্ঞ সুসানা রেয়েস বলেন, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখানোর এ প্রচেষ্টা আনন্দের। শনিবারের ওই অর্কেস্ট্রা পরিবেশনা শেষ হওয়ার পর শিল্পীরা তাঁদের আবেগ ধরে রাখতে পারছিলেন না। অনেকে তাঁদের বাদ্যযন্ত্রগুলো আকাশের দিকে তুলে ধরে আবেগ প্রকাশ করেন।

এর আগে সবচেয়ে বড় অর্কেস্ট্রা হয়েছিল সেন্ট পিটার্সবার্গে। তখন ৮ হাজার ৯৭ যন্ত্রশিল্পী একত্র হয়েছিলেন।

লাতিন আমেরিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন