default-image

কাগজপত্র ছাড়া অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়নের সব প্রক্রিয়া ১০০ দিনের জন্য স্থগিত রাখতে নির্দেশ দিয়েছিলেন জো বাইডেন। তাঁর সেই নির্দেশনা আটকে দিয়েছেন আদালত। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার টেক্সাসের ফেডারেল আদালত বাইডেনের নির্দেশের বিপক্ষে রায় দিয়েছেন।

বাইডেন অন্যান্য নির্বাহী আদেশের সঙ্গে মুসলিমপ্রধান দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেছেন। তবে আদালতের এই রায়ে অভিবাসনব্যবস্থা সংস্কারে বাইডেন প্রশাসনের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হলো।

বিজ্ঞাপন

টেক্সাসের জেলা জজ ড্রিউ টিপ্টন অভিবাসীদের বিতাড়ন স্থগিতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নির্দেশনার ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করেছেন।
আদেশে বিচারক বলেছেন, ১০০ দিনের জন্য নথিপত্রহীন অভিবাসীদের বিতাড়ন বন্ধের জন্য নির্দেশনায় বাইডেন প্রশাসন সুনির্দিষ্ট এবং যৌক্তিক কারণ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।

রক্ষণশীল বিচারক ড্রিউ টিপ্টনের আদেশে অভিবাসী দলগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

জো বাইডেন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আমেরিকায় থাকা ১ কোটি ১০ লাখের বেশি নথিপত্রহীন অভিবাসীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ উন্মুক্ত করবেন। সমন্বিত অভিবাসন আইন প্রণয়নের জন্য প্রেসিডেন্ট বাইডেন কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
রক্ষণশীল রাজ্য হিসেবে পরিচিত টেক্সাস শুরুতেই বাইডেন প্রশাসনের অভিবাসন সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিল। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়েই টেক্সাস অভিবাসীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল ক্যান প্যাক্সটন আদালতের শুনানিতে বলেন, বাইডেন প্রশাসনের নতুন নির্দেশনা ফেডারেল অভিবাসন আইনের লঙ্ঘন। এ ছাড়া টেক্সাস রাজ্যের সঙ্গে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের চুক্তিতে বলা আছে, এমন কোনো পরিবর্তনের নির্দেশনা জারির আগে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। বাইডেন প্রশাসনের নির্দেশনাকে এমন চুক্তির লঙ্ঘন বলেও শুনানিতে ক্যান প্যাক্সটন উল্লেখ করেন।

টেক্সাস রাজ্যের ফেডারেল আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্কিট আদালতে আপিল করা হতে পারে। আপিল আদালতে এই রায় স্থগিত না হলে নথিপত্রহীন অভিবাসীদের বিতাড়ন প্রক্রিয়া ট্রাম্প সময়ের অবস্থার মতোই বহাল থাকছে।

টেক্সাস আদালতের রায়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অভিবাসী দলগুলো। তারা রাজনৈতিক খেলার মাধ্যমে লাখ লাখ অভিবাসীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি না করে দ্রুত সমন্বিত অভিবাসন সংস্কার আইন প্রণয়নের জন্য দাবি জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্টে দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ এবং অভিবাসন নিয়ে কাজ করেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আইনজীবী অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী। প্রথম আলোকে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হচ্ছে নথিপত্রহীন অভিবাসীদের বহিষ্কার স্থগিত করার আদেশটি এখন স্থগিত হয়ে পড়েছে। এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালত থেকে রায় না পাওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে গেছে।

অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী বলেন, ‘অভিবাসন নিয়ে চরমভাবে বিভক্ত মার্কিন সমাজে নগ্ন বাস্তবতা আমরা বারবার প্রত্যক্ষ করেছি। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় উদারনৈতিক রাজ্যগুলোর পাল্টা ভূমিকায় এখন অবতীর্ণ হবে রক্ষণশীল রাজ্যগুলো। এ খেলা থামিয়ে নতুন বাইডেন প্রশাসন অভিবাসন সংস্কারে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করেন ডেমোক্র্যাট দলের ডিসট্রিক্ট লিডার অ্যাট লার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী।’

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন