বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় নির্বাচনী আইনে ব্যাপক পরিবর্তন আনার জন্য প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে ডাক ভোটসহ সাধারণ নাগরিকদের ভোটদানের প্রক্রিয়ায় বদল আসবে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যের সর্বসাধারণের ভোট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ডেমোক্র্যাটদের। তাঁরা একে ‘ভোটার দমনের আইন প্রস্তাব’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ নিয়ে অঙ্গরাজ্যে উত্তেজনা চলছে।

টেক্সাসের নির্বাচন আইনটি অঙ্গরাজ্য আইনসভায় পাস করার জন্য বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। অঙ্গরাজ্য গভর্নর গ্রেগ অ্যাবোট ৮ জুলাই থেকে এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এমন অধিবেশন ৩০ দিনের জন্য ডাকা হয়। ‘কোরাম’ না হলে গভর্নরকে আবার নতুন করে অধিবেশন আহ্বান করতে হবে। অধিবেশনে যোগদান থেকে বিরত রয়েছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা।

টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের গভর্নরই কেবল এমন বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করতে পারেন। অঙ্গরাজ্য আইনসভার আইনপ্রণেতারা এমন অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে বাধ্য। উপযুক্ত কারণ ছাড়া আইনসভার অধিবেশনে আইনপ্রণেতারা উপস্থিত না হলে জরিমানা, এমনকি গ্রেপ্তারের নির্দেশ পর্যন্ত দিতে পারেন অঙ্গরাজ্য গভর্নর।

টেক্সাসের সিনেটে ১৮ জন রিপাবলিকান ও ১৩ জন ডেমোক্র্যাট আছেন। আর অঙ্গরাজ্য সভায় (প্রতিনিধি পরিষদ) ৮৩ জন রিপাবলিকান, ৬৭ জন ডেমোক্র্যাট। অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী, দুই–তৃতীয়াংশ আইনপ্রণেতা অধিবেশনে উপস্থিত না হলে ‘কোরাম’ হবে না। কোরাম না হলে অধিবেশন শুরু করা যাবে না।

ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতারা নির্বাচনী আইনে পরিবর্তন ঠেকাতে ইতিমধ্যে সব চেষ্টাই করেছেন। তাঁরা ব্যাপক প্রচার, সভা-সমিতি করেও রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্য গভর্নর ও দলটির আইনপ্রণেতাদের উদ্যোগ প্রতিহত করতে পারেননি।

অঙ্গরাজ্য সভায় যাতে কোরাম না হয়, সে জন্য ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতারা উড়োজাহাজ ভাড়া করে একযোগে অঙ্গরাজ্য ত্যাগ করেছেন। এই আইনপ্রণেতারা বলেছেন, তাঁরা ওয়াশিংটন ডিসিতে ভোটার আইন নিয়ে সক্রিয় হওয়ার জন্য মার্কিন কংগ্রেসের সহযোগিতা কামনা করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন পরিচালনা করা হয় অঙ্গরাজ্যে প্রণীত আইনের মাধ্যমে। এখানে মার্কিন কংগ্রেসের তেমন কিছু করার নেই।

গত নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও পশ্চিমের অঙ্গরাজ্যগুলোর নির্বাচন আইনে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ডাক ভোট ও অনুপস্থিতি ভোটদান কঠিন করলে জাতীয়ভাবে ডেমোক্র্যাটদের উত্থান ঠেকানো যাবে—এমন হিসাব থেকেই রক্ষণশীলরা এ উদ্যোগ নিয়েছেন। নভেম্বরের নির্বাচনে হেরে যাওয়া সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন পরিবর্তনের জন্য মদদ দিচ্ছেন। রিপাবলিকান–নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যগুলোয় তাঁদের এ কৌশল ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে ডেমোক্রেটিক পার্টি।

আইনসভায় যাতে কোরাম না হয়, সে জন্য নিজ অঙ্গরাজ্য ছেড়ে অন্যত্র অবস্থানের যে কৌশল টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা নিয়েছেন, তাতে তাঁরা সফল হবেন বলে মনে হয় না।

অঙ্গরাজ্য গভর্নর ইতিমধ্যে বলেছেন, তিনি এসব আইনপ্রণেতার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করবেন। আইনি প্রস্তাবটি গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অধিবেশন আহ্বান করতে থাকবেন। এক মাস পর আবার অঙ্গরাজ্য গভর্নর এমন বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করতে পারবেন।

টেক্সাসের অঙ্গরাজ্যের অনেক আইনপ্রণেতা সার্বক্ষণিক রাজনীতিবিদ নন। তাঁদের অধিকাংশই বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। অঙ্গরাজ্য আইনসভায় সময় দেওয়ার জন্য তাঁরা বার্ষিক মাত্র ৭ হাজার ২০০ ডলার করে পান। ফলে নিজেদের পেশা বা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য হলেও অঙ্গরাজ্যের বাইরে আইনপ্রণেতারা বেশি দিন থাকতে পারবেন না।

তা ছাড়া আইনসভার অধিবেশনে অঙ্গরাজ্যের অন্যান্য জরুরি আইন প্রণয়নের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হলে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের অন্যত্র বেশি দিন অবস্থান করা সম্ভব হবে না। কারণ, ডেমোক্র্যাটরা অঙ্গরাজ্য সভার অধিবেশনে উপস্থিত না হলে অর্থবিল পাস হবে না। তেমনটা হলে নিজেদের ও অফিস কর্মচারীদের বেতন বন্ধ হয়ে যাবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা বেপরোয়া এই উদ্যোগের মাধ্যমে জাতীয়ভাবে একটা মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনী আইন পরিবর্তন করার জন্য রিপাবলিকানদের উদ্যোগের পেছনে যেসব কারণ আছে, সেগুলো নিয়ে তাঁরা দেশবাসীকে সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের কাজকে সমর্থন দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। তিনি বলেছেন, টেক্সাসের ডেমোক্র্যাটরা সাহসী কাজ করেছেন। এ নিয়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও তাঁদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন