default-image

তাইওয়ানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের সাক্ষাতের বিধিনিষেধ আরও শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ক্ষুব্ধ চীন যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছে, ‘আগুন নিয়ে খেলবেন না।’ চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান মঙ্গলবার এ মন্তব্য করেছেন।

কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আল–জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত শুক্রবার তাইওয়ানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের সাক্ষাতের বিধিনিষেধ শিথিল করে তাদের নির্দেশিকা হালনাগাদ করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্রকে এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

ঝাও লিজিয়ান এ সময় আরও বলেন, ‘মার্কিন-তাইওয়ান কর্মকর্তা পর্যায়ের যোগাযোগ বন্ধ করতে, বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে ও যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করতে, তাইওয়ানের স্বাধীনতাকামী পক্ষকে ভুল সংকেত না দিতে এবং চীন-মার্কিন সম্পর্ক ও তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি-স্থিতিশীলতার ক্ষতি না করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আমরা।’

বিজ্ঞাপন

তাইওয়ানকে নিজের অংশ বলে দাবি করে চীন। চীনের স্পর্শকাতর এই অঞ্চল নিয়ে প্রায়ই ওয়াশিংটন-বেইজিং উত্তেজনা বেড়ে যায়। বেইজিংয়ের সরকারকে চীনের বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে দেশটির সঙ্গে ১৯৭৯ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে মার্কিন কর্তৃপক্ষ ওই সময় তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটায়। তবে শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর যে হালনাগাদ নির্দেশিকা জারি করেছে, তাতে তাইওয়ানের সঙ্গে আবারও সম্পর্ক জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন ঘটেছে। এতে দুই ভূখণ্ডের কর্মকর্তা পর্যায়ে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র যখন তাইওয়ানের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে, চীন তখন তার সামরিক শক্তি প্রদর্শন শুরু করেছে। সোমবার তাইওয়ানের আকাশসীমায় চীনের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি দেখা যায়, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ওই দিন তাইওয়ানের আকাশে চীনের বিমানবাহিনীর ২৫টি উড়োজাহাজ ঢুকে পড়ে। এসব উড়োজাহাজের মধ্যে যুদ্ধবিমান, পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম উড়োজাহাজও ছিল। এর আগে চীন এভাবে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের ব্যাখ্যায় বলেছিল, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা এমনটা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন