default-image

যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অধিকারের পক্ষে রক্ষণশীলদের ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পদক্ষেপ বাধাগ্রস্ত করতে প্রকাশ্য চালানো হচ্ছে নানা তৎপরতা।

শক্তিশালী মার্কিন সংগঠন ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন (এনআরএ) আগ্নেয়াস্ত্র রাখার পক্ষে ২০ লাখ ডলার ব্যয়ে টিভি প্রচারণা শুরু করেছে। কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের নিশানা করে এই প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট বাইডেন এ-সংক্রান্ত আইন সংস্কার করতে আগ্রাসী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি জাতির উদ্দেশে দেওয়া বক্তৃতায় আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করেন বাইডেন। তিনি আগামী সপ্তাহে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে প্রথম বক্তৃতা দেবেন। সেখানে প্রেসিডেন্ট বাইডেন আইনপ্রণেতাদের আগ্নেয়াস্ত্র আইন পাস করার জন্য জোরালো আহ্বান জানাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বেশ কিছু ঘটনার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্নেয়াস্ত্র সমস্যার বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। সহজে আগ্নেয়াস্ত্র প্রাপ্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে একের পর রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটছে। কিন্তু যখনই আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ কঠিন করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়, তখনই সাংবিধানিক অধিকারের অজুহাত তুলে রক্ষণশীলরা মাঠে নেমে পড়েন।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীতে নাগরিকদের আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। রক্ষণশীলদের বিরোধিতার কারণে আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহের জন্য সর্বজনীন ‘ব্যাকগ্রাউন্ড’ তল্লাশির নিয়মটাও এখন পর্যন্ত চালু করা যায়নি।

প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে সিনেট এখন পর্যন্ত আলোচনা শুরুর জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান ৫০-৫০ সদস্যে বিভক্ত সিনেট। তাই সিনেটে আগ্নেয়াস্ত্র আইন পাসের জন্য রিপাবলিকানদের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু তাঁরা অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে বিধিনিষেধ আরোপ করে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করার কথা বলে আসছেন।

বিজ্ঞাপন

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের কঠোর পদক্ষেপগুলোর বিরুদ্ধে মাঠে নেমে পড়েছে এনআরএ।

আগ্নেয়াস্ত্র-বিরোধী হিসেবে পরিচিত ডেভিড চিপম্যানকে ব্যুরো অব অ্যালকোহল, টোব্যাকো ও ফায়ার আর্মস (এটিএফ)-এর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। এই নিয়োগের বিরোধিতা করে প্রচারণা চালাচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র অধিকার সংরক্ষণের শক্তিশালী সংগঠন এনআরএ।

টিভি প্রচারণায় স্থানীয় আইনপ্রণেতার নাম উল্লেখ করে জনগণের উদ্দেশে বলা হচ্ছে, তাঁকে (আইনপ্রণেতা) প্রেসিডেন্ট বাইডেনের আগ্নেয়াস্ত্র-নীতি প্রত্যাখ্যান করতে বলুন।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন, প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ও সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলের নেতা চার্লস শুমারের ছবি দিয়ে একজন ঘোষকের ঘোষণা রয়েছে প্রচারণা-চিত্রে। যেখানে বলা হচ্ছে, সহজেই মালিকানা নেওয়া যায়—এমন আগ্নেয়াস্ত্র তাঁরা নিষিদ্ধ করতে চান। একজন ‘নৈরাজ্যবাদী’ আগ্নেয়াস্ত্র-বিরোধী ব্যক্তিকে এটিএফের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও প্রচারণায় উল্লেখ করা হচ্ছে।

মেইন, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, মনটানার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে ব্যাপকভাবে এ ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এসব এলাকা থেকে নির্বাচিত আইনপ্রণেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এনআরএ এমন উদ্যোগ নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন যতই আন্তরিক হোন, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন সহজে পাস হবে বলে মনে হচ্ছে না। তা ছাড়া এ বিষয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির সব সিনেট সদস্যের অবস্থানও পরিষ্কার জানা যাচ্ছে না।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আইনপ্রণেতাদের সহযোগিতা চেয়ে হয়তো আকুল আবেদন জানাবেন। কিন্তু রক্ষণশীলরা এ ব্যাপারে সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্ন তুলে সময়ক্ষেপণ করতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে যত সময়ক্ষেপণ হবে, তত এ-সংক্রান্ত সহিংসতায় মানুষের প্রাণ ঝরবে বলে সতর্ক করছেন আগ্নেয়াস্ত্র-বিরোধীরা। তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীলরা রক্ত ঝরাতে রাজি, কিন্তু সাংবিধানিক অধিকারে এতটুকু ছাড় দিতে রাজি নন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন