default-image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন তাদের কম্পিউটারব্যবস্থা উন্নত করে ‘ক্লাউড’নির্ভর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটি ১০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করবে।

গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, ‘ক্লাউড কম্পিউটিং’-এর এই চুক্তিটি আমাজনের সঙ্গে করতে যাচ্ছে পেন্টাগন। তবে এক প্রতিবেদনে বিবিসি আজ শনিবার বলছে, আমাজন নয়, বিপুল পরিমাণ অর্থের এই কাজটি পেন্টাগন মাইক্রোসফটকে দিয়েছে।

‘জয়েন্ট এন্টারপ্রাইজ ডিফেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার (জেডি)’ নামের ১০ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের মাধ্যমে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরকে প্রযুক্তিগত দিক থেকে আরও বেশি সক্ষম করে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

চুক্তির বিষয়ে পেন্টাগন জানিয়েছে, সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণ শেষে মাইক্রোসফটকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

মাইক্রোসফটের সঙ্গে পেন্টাগনের চুক্তির বিষয়ে আমাজন জানিয়েছে, তারা এ সিদ্ধান্তে বিস্মিত। আমাজন বলছে, চুক্তির বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করা হলে হয়তো ভিন্ন সিদ্ধান্ত আসত।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর তাদের দীর্ঘদিনের ব্যবহারে পুরোনো কম্পিউটার নেটওয়ার্কব্যবস্থা পরিবর্তন করে ক্লাউডভিত্তিক একক কম্পিউটার নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চায়। ধারণা করা হচ্ছে, জেডি প্রকল্পের মাধ্যমে মার্কিন সামরিক বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আরও সহজে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তে ঢুকতে পারবে।

চুক্তির আওতায় মাইক্রোসফট পেন্টাগনকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর বিশ্লেষণ ও অতি গোপনীয় সামরিক কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সেবাসহ আরও কিছু সেবা দেবে।

শুরু থেকে জেডি প্রকল্প পাওয়ার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে ছিল আমাজন। জেডি প্রকল্পে আমাজন যুক্ত হতে পারে—এমন সম্ভাবনার সঙ্গে সঙ্গে এই কোম্পানির বিরোধীরা সমালোচনায় সোচ্চার হয়ে ওঠেন। তবে আমাজনের জেডিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে বড় সমালোচক ছিলেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প ওই চুক্তির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। গত জুলাইয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, তিনি আমাজন ও পেন্টাগনের চুক্তি-সম্পর্কিত অজস্র অভিযোগ পেয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, অন্যান্য কোম্পানি তাঁকে জানিয়েছে, ওই দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যে চুক্তি হতে চলেছে, তা যথেষ্ট স্বচ্ছ নয়। এ জন্য কোন প্রক্রিয়ায় চুক্তিটি হতে চলেছে, সেটি যাচাই করার জন্য তাঁর প্রশাসন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।

অতীতেও বেশ কয়েকবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টের মালিক জেফ বেজসের সমালোচনা করেছেন।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা জানাচ্ছেন, এই চুক্তির ফলে মাইক্রোসফটের শেয়ারের দর বাড়বে। একই সঙ্গে আসন্ন বছরগুলোতে কোম্পানিটি অর্থ-সম্পর্কিত নানা ব্যবস্থাপনা ইতিবাচকভাবে সম্পন্ন করতে পারবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন