default-image

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকাকে ‘লাল’ ও ‘নীল’ রঙের বিভাজন দিয়ে দেখেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মানচিত্রে লাল ও নীল রঙের সমাহার। রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্যগুলোকে ‘লাল’ রঙের এবং ডেমোক্র্যাট-প্রধান অঙ্গরাজ্যগুলোকে ‘নীল’ রঙের বলে চিহ্নিত করা হয়।

সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর একটি তালিকা দেখাচ্ছিলেন। অঙ্গরাজ্য অনুযায়ী মোট মৃত্যুর মানচিত্র দেখিয়ে ট্রাম্প বলেন, নীল অঙ্গরাজ্যগুলোয় মৃত্যুর হিসাব বাদ দিলে আমেরিকায় করোনায় খুব কম লোকেরই মৃত্যু হয়েছে।

নীল অঙ্গরাজ্যে মৃত্যু বেশি হয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্র্যাট-শাসিত অঙ্গরাজ্যগুলো বাদ দিলে আমেরিকায় তেমন বেশি লোকের মৃত্যু হয়নি।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে নিউইয়র্ক, নিউজার্সি ও ক্যালিফোর্নিয়ায়। এই তিনটি নীল অঙ্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত। ডেমোক্র্যাট-শাসিত এই তিন অঙ্গরাজ্য ছাড়াও ফ্লোরিডা ও টেক্সাসে ব্যাপক লোকের মৃত্যু হয়েছে। এই দুটি অঙ্গরাজ্য রিপাবলিকান-শাসিত। মৃত্যুর সংখ্যার দিক দিয়ে এই দুটি অঙ্গরাজ্য শীর্ষ পাঁচে অবস্থান করছে।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ যোগ করেছে। সমালোচকেরা বলছেন, দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প বিভেদকে শুধু উসকেই দিচ্ছেন না, বরং তিনি বিভেদে বিশ্বাস করেই দেশ পরিচালনা করছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের পর ডেমোক্রেটিক পার্টির জাতীয় কমিটি থেকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। তারা বলেছে, ট্রাম্প করোনাভাইরাসকে রাজনৈতিকীকরণ করে আসছেন। কোভিড-১৯ নীল বা লাল অঙ্গরাজ্য দেখে আসেনি। আমেরিকার ১০টি অঙ্গরাজ্যের আনুপাতিক সংক্রমণ বিবেচনায় আনলে তার মধ্যে ৯টিরই গভর্নর রিপাবলিকান পার্টির।

সিনেটে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা চার্লস শুমার ১৭ সেপ্টেম্বর বলেছেন, ‘কোন পর্যায়ের মানুষ হলে একজন প্রেসিডেন্ট এমন কথা বলতে পারেন!’

বিজ্ঞাপন

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্দেশে শুমার বলেন, চোখ বন্ধ করে যদি প্রেসিডেন্ট মনে করেন, দেশের অর্ধেকেরই কোনো অস্তিত্ব নেই, তবে অন্য কেউ বলতেই পারে, এ কাজ মোটেই ভালো কাজ নয়।

ট্রাম্পের বক্তব্য মার্কিন সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচিত হচ্ছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এক সংবাদ বিশ্লেষণে বলেছে, পুনর্নির্বাচনে দাঁড়ানো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশকে দেখছেন লাল ও নীলের বিভাজনে। দেশের প্রেসিডেন্ট হয়ে তাঁর এমন মনোভাব আমেরিকার জন্য ক্ষতিকর।

আমেরিকার সাম্প্রতিক ইতিহাসে যেকোনো জাতীয় সংকটে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট সব দলের নেতাদের ডেকেছেন। দেশকে ঐক্যবদ্ধ করে সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করেছেন বলে নিউইয়র্ক টাইমস উল্লেখ করেছে। তবে ট্রাম্প এর ব্যতিক্রম।

ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন বলেন, তাঁর সমস্ত রাজনৈতিক জীবন কেটেছে লোকজনকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজে।

বিজ্ঞাপন

জো বাইডেন গতকাল বৃহস্পতিবার সিএনএনের সঙ্গে টাউন হলে এক সভায় বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে শুধু ডেমোক্র্যাটদের প্রেসিডেন্ট হবেন না, হবেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। দেশকে ঐক্যবদ্ধ করবেন উল্লেখ করে বাইডেন বলেন, ট্রাম্পের হাতে দেশ নিরাপদ নয়।

জনগণের জীবন রক্ষায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যর্থ হয়েছেন উল্লেখ করে বাইডেন বলেন, ‘আমরা করোনার টিকা নিয়ে বিজ্ঞানীদের কথা শুনব, ট্রাম্পের কথা নয়।’

ট্রাম্পের কথায় নয়, মহামারি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যান্থনি ফাউসির কথায় নিজে ভ্যাকসিন গ্রহণ করবেন বলে জানান বাইডেন।

২০১৬ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর বক্তৃতায় বলেছিলেন, তিনি শুধু রিপাবলিকানদের প্রেসিডেন্ট নয়, আমেরিকার সব জনগণের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। যদিও ট্রাম্পের পরবর্তী কার্যক্রমের সঙ্গে তাঁর কথার মিল পাওয়া যায়নি। কার্যত, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ডেমোক্র্যাট-শাসিত অঙ্গরাজ্যগুলোর গভর্নরদের সম্পর্ক মোটেই ভালো যায়নি।

বিজ্ঞাপন

নীল রাজ্যগুলো আমেরিকার উদারনৈতিক রাজনীতির একধরনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আসছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এসব ডেমোক্র্যাট অঙ্গরাজ্যে জয়ের কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই নির্বাচনী প্রচারের জন্য ডেমোক্র্যাট অঙ্গরাজ্যগুলোয় তাঁর তেমন কোনো সফরসূচিও দেখা যাচ্ছে না।

ট্রাম্পের বিদ্বেষমূলক অবস্থান নিয়ে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। প্রান্তিক আমেরিকার অনেক শ্বেতাঙ্গ এখনো মনে করে, করোনাভাইরাস গরিবের রোগ, অভিবাসীদের রোগ। এসব লোকজনের মধ্যে মাস্ক পরার প্রবণতাও কম। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিভেদের বক্তব্যে তাঁর এসব সমর্থককে আরও উজ্জীবিত হতে দেখা যায়।

মাত্র ছয়টি অঙ্গরাজ্যের ইলেক্টোরাল ভোটের হিসাবে এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনে যে প্রার্থীই জয়ী হোন না কেন, ট্রাম্পের বিভেদের রাজনৈতিক ও সামাজিক ছাপ আমেরিকাকে পেছনে নিয়ে যাবে বলে সমালোচকদের মত।

এ কারণে জো বাইডেন বলছেন, আরেক দফা ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়া আমেরিকার জন্য খুবই বিপজ্জনক।

মন্তব্য পড়ুন 0