default-image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয় মেনে নেননি। এখনো বলছেন মানবেন না। এর মধ্যেই জনগণের জন্য অবিলম্বে আরেকটি বড় ধরনের নাগরিক প্রণোদনা আইন পাস করার জন্য কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

১৪ নভেম্বর এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, কংগ্রেসকে এখন বড় একটা ‘কোভিড রিলিফ বিল’ আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন দরকার।

নির্বাচনের পর ওয়াশিংটনের সরকারি কার্যক্রম এখন অনেকটাই ঝুলে আছে। প্রতিদিন কোভিড-১৯ সংক্রমণ বাড়ছে। নতুন করে লকডাউনের কথা ভাবা হচ্ছে। অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের জন্য স্বাস্থ্যসেবীরা বারবার জনগণকে সতর্ক করে দিচ্ছেন। মার্চ মাসের পর চাকরিচ্যুত কর্মজীবীদের অর্ধেকই এখনো কাজে ফিরে যেতে পারেননি।

বিজ্ঞাপন

লোকজনের ঘরভাড়া বাকি পড়ে আছে মাসের পর মাস। বাড়ির মালিকেরা ভাড়াটে উচ্ছেদ করতে পারছেন না। গৃহঋণের কিস্তি, ট্যাক্স বাকি পড়ছে। ক্ষুদ্র ব্যবসা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যেতে পারেনি। বহু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। যারা টিকে থাকার চেষ্টা করছে তাদের অবস্থা নাজুক। সাধারণ মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক দুরবস্থা এবং উৎকণ্ঠা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। কর্মহীনদের জন্য বিশেষ ভাতার মেয়াদও চলে গেছে।

ডেমোক্র্যাটদের হাতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ আগেও ছিল। এবারের নির্বাচনেও কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের। তবে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকান দল। নির্বাচনের আগে থেকেই নাগরিক প্রণোদনা নিয়ে কোনো সমঝোতা হচ্ছে না। ডেমোক্রেটিক পার্টি নতুন প্রণোদনা প্যাকেজে বড় ধরনের সহযোগিতা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। এ প্রস্তাবের সঙ্গে কর্মহীন লোকজন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, বাসাভাড়াসহ স্থানীর সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাব রয়েছে।

সিনেটে এমন উদার প্রস্তাব মেনে নেওয়া হচ্ছে না। বারবার সমঝোতায় বসা হচ্ছে। কিন্তু সমঝোতা ভেস্তে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগেও এমন উদার প্রণোদনা দেওয়ার মৌখিক ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর দল এবং হোয়াইট হাউসের আলোচনাকারীরা একমত হতে না পারায় নাগরিক প্রণোদনার সব উদ্যোগ থমকে দাঁড়িয়েছে।

সিনেটে রিপাবলিকান দলের নেতা মিচ ম্যাককনেল সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বলেছেন, ব্যাপক প্রণোদনা প্রস্তাব পাস করা হবে না। কিন্তু রিপাবলিকানদের নেতা ট্রাম্প মৌখিক আশ্বাস দিয়েই যাচ্ছেন।

কংগ্রেসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি এবং সিনেটের নেতা চার্লস শুমার বলেছেন, তাঁরা ব্যাপক প্রণোদনা প্রস্তাব থেকে এখন সরে আসবেন না। অথচ সিনেট, হোয়াইট হাউস এবং কংগ্রেসের ঐকমত্য ছাড়া নতুন প্রণোদনা আইন পাস হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

হোয়াইট হাউসে এখন স্বাভাবিক কাজকর্ম নেই বলেই চলে। দৃশ্যত হোয়াইট হাউসের প্রতিদিনের যেসব খবর জনগণের জানার সুযোগ ছিল, এখন তা আর নেই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর টুইট বার্তার মধ্যেই নিজের কথা বলে চলেছেন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ের উদারনৈতিক অর্থনীতিবিদ জেসন ফারম্যান বলেছেন, নতুন প্রেসিডেন্টের জন্য অপেক্ষা না করেই ডেমোক্র্যাটদের এখনই একটা সমঝোতার প্রণোদনা পাস করা উচিত। এর ফলে অর্থের প্রবাহ শুরু হবে। অর্থনৈতিক উৎকণ্ঠায় থাকা নাগরিকদের কিছুটা হলেও উপশম হবে বলে তিনি মনে করেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0