পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড জবরদখল করে গড়ে তোলা ইসরায়েলের অবৈধ বসতি
পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড জবরদখল করে গড়ে তোলা ইসরায়েলের অবৈধ বসতি ছবি: রয়টার্স

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদি বসতি পরিদর্শন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনিরা বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে আরেকটি অবৈধ নজির সৃষ্টি হলো। এ ঘটনা ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের দখল করে নেওয়া ভূখণ্ডে দেশটির নিয়ন্ত্রণ আরও পাকাপোক্ত করতে সহায়তা করবে।

আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, ফিলিস্তিনিদের এই ক্ষোভ প্রকাশের কেন্দ্রে রয়েছে মাইক পম্পের বিতর্কিত একটি মন্তব্য। সেখানে তিনি বলেন, দখল করা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের এসব ইসরায়েলি বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্যে ‘মেড ইন ইসরায়েল’ অর্থাৎ ইসরায়েলে তৈরি—এ লেবেল জুড়ে দেওয়া যেতে পারে।

ফিলিস্তিনের সংগঠন ‘বয়কট, ডাইভেস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাঙ্কশন (বিডিএস)’ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেওর মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। ফিলিস্তিনি নেতৃত্বাধীন প্রচারণা ইহুদিবিদ্বেষী বলে পম্পেও যে অভিযোগ করেছেন, সেটিও নাকচ করে দিয়েছে সংগঠনটি।

বিডিএস বলেছে, তারা তৃণমূল পর্যায়ের একটি ফিলিস্তিনি আন্দোলন। তাদের লক্ষ্য ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারির অবসান ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের নিজ এলাকায় ফেরত আসার অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে বিডিএস আরও বলেছে, এই আন্দোলন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও সমতা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। যেসব মানুষ একটি মর্যাদাপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও সুন্দর পৃথিবী গড়ার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁরা তাদের পাশে রয়েছেন।

বসতি পরিদর্শনের আগে বৃহস্পতিবার সকালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলাপকালে পম্পেও তাঁকে বলেন, ফিলিস্তিনিদের ওই সংগঠনকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ সংগঠন হিসেবে ঘোষণার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘অফিস অব দ্য স্পেশাল এনভয় টু মনিটর অ্যান্ড কমব্যাট অ্যান্টি সেমিটিজম’ এ বিষয়ে কাজ করবে।

বিডিএস বলেছে, তারা ইহুদিবিদ্বেষসহ সব ধরনের বর্ণবাদের বিরোধী। ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ব্যক্তি ও সংগঠনের কণ্ঠরোধের চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

নেতানিয়াহুকে পম্পেও বলেন, ‘আমি আপনাকে জানাতে চাই, বিডিএসের বিদ্বেষী কর্মকাণ্ডে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠনকে চিহ্নিত করতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেব। আমরা তাদের ওপর থেকে সরকারের সমর্থন তুলে নেব।’ জবাবে বিডিএস বলেছে, তারা ইহুদিবিদ্বেষসহ সব ধরনের বর্ণবাদের বিরোধী। ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ব্যক্তি ও সংগঠনের কণ্ঠরোধের চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

পম্পেওর এসব মন্তব্যের আগে গত বছর ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার কয়েক দশকের পররাষ্ট্রনীতি পাল্টে ফেলে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই ঘোষণা দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের ওই সব বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী পদক্ষেপ হিসেবে আর দেখবে না।

চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, দখল করা কোনো ভূখণ্ডে দখলদার শক্তির জন্য তার বেসামরিক নাগরিকদের স্থানান্তর করাটা অবৈধ।

মন্তব্য পড়ুন 0