default-image

সৌরজগতের লোহিত গ্রহ একসময় উষ্ণ ছিল, ছিল ভেজাও। জীবনধারণের উপযুক্ত পরিবেশও হয়তো ছিল সেখানে। কিন্তু একটা সময় গ্রহটির বায়ুমণ্ডল পাতলা হতে থাকে, হারিয়ে যেতে থাকে পানি। এভাবে শত কোটি বছর পর মঙ্গল আজকের রুক্ষ, শীতল পরিবেশ পেয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

এনএন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মঙ্গলযান কিউরিওসিটির পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে এসব ধারণার কথা বলেছেন বিজ্ঞানীরা। ২০১১ সালের ২৬ নভেম্বর নাসা মহাকাশযানে করে পৃথিবী থেকে কিউরিওসিটিকে উৎক্ষেপণ করে। পরের বছর, অর্থাৎ ২০১২ সালের ৬ আগস্ট মঙ্গলযানটি মঙ্গল গ্রহের গেল ক্রেটারে অবতরণ করে। এরপর ২০১৪ সাল পর্যন্ত দুই বছরে এই মঙ্গলযান গেল ক্রেটার থেকে তিন মাইল উঁচু মাউন্ট শার্পে উঠে আসে।

গেল ক্রেটার মঙ্গলের বুকে বিশাল একটি খাদ। এই খাদের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতেই কিউরিওসিটিকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। এর থেকে বিজ্ঞানীরা জানার চেষ্টা করছেন, মঙ্গল কীভাবে উষ্ণতা ও আর্দ্রতা হারিয়ে শুষ্ক আর অত্যন্ত শীতল হয়ে উঠল।

বিজ্ঞাপন

কিউরিওসিটির পাঠানো সাম্প্রতিকতম তথ্যের ভিত্তিতে নাসার গবেষকেরা বলছেন, মঙ্গল আসলে বেশ কয়েক দফায় আর্দ্র ও শুষ্ক হয়েছে। এভাবে চলতে চলতে একসময় গ্রহটি এর পৃষ্ঠের সব পানি হারিয়ে ফেলে। এ ঘটনা ঘটেছে আজ থেকে প্রায় ৩০০ কোটি বছর আগে।

নাসা জানায়, কিউরিওসিটিতে কেমক্যাম নামের একটি যন্ত্রাংশ রয়েছে। এটি লেজার রশ্মি ছুড়ে যেকোনো পাথরকে ১৮ হাজার ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উত্তপ্ত করতে পারে। এই তাপে পাথর বাষ্পীভূত হয়ে প্লাজমা তৈরি করে। সেই প্লাজমা বিশ্লেষণ করেই বিজ্ঞানীরা পাথরের খনিজ ও রাসায়নিক উপাদান সম্পর্কে ধারণা পান।

লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির কেমক্যাম গবেষক রজার উইনস বলেন, কিউরিওসিটির অভিযানের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল মঙ্গলের অতীত সম্পর্কে জানা। এ ক্ষেত্রে গেল ক্রেটার থেকে মাউন্ট শার্প পর্যন্ত যেসব নুড়িপাথর ও মাটির নমুনা বিশ্লেষণ করেছে কিউরিওসিটি, তাতে অনেক কিছুই জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন