ট্রাম্প ও বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে লড়ছেন
ট্রাম্প ও বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে লড়ছেনছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পরিস্থিতি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ, রাজনীতিবিদ ও বৈদেশিক নীতি বিশেষজ্ঞরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। চীন এখনই কোনো মন্তব্য করতে চায় না। আর রাশিয়ায় ক্রেমলিন–সমর্থক আইনপ্রণেতা প্রচুর পপকর্ন নিয়ে দেখতে বলেছেন নির্বাচনের ফলাফল।

বিশ্বনেতাদের কেউ কেউ ধৈর্য ধরতে বলেছেন। কেউ কেউ ভুল করে বলে ফেলেছেন যে ট্রাম্প তাঁর ডেমোক্রেটিক প্রতিদ্বন্দ্বী বাইডেনকে হারিয়ে দিয়েছেন।

মার্কিন নির্বাচনের ফল আসতে শুরু করেছে। হোয়াইট হাউসে কে যাচ্ছেন, তা নিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় বিশ্ববাসী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের ভাগ্য ঝুলছে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের ফলাফলের ওপর। কিন্তু ভোট গণনা নিয়ে জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় ফলাফল জানতে কয়েক দিন লেগে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে জয়ী দাবি করেছেন। কোনো রকম প্রমাণ ছাড়াই তিনি নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন। সিএনএনের আজ শুক্রবারের খবরে জানা যায়, হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংরুমে দেওয়া বক্তব্যে অভিযোগ করে ট্রাম্প বলেন, জালিয়াতি করে তাঁকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তিনি সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথাও বলেছেন।

টাইম অনলাইনের খবরে জানা যায়, স্লোভেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী জ্যানেজ জ্যান মার্কিন নির্বাচনে জয়ী হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করেছেন। অথচ যুক্তরাষ্ট্রে এখনো ভোট গণনাই শেষ হয়নি। টুইটার কর্তৃপক্ষ তাঁর ওই টুইটে ভুয়া তথ্যের সিল লাগিয়ে দিয়েছে।

ইতালিতে সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী মাতিও সালভিনিও ট্রাম্পের পক্ষেই কথা বলেছেন। টুইটারে তিনি বলেছেন, সংবাদপত্রগুলো ভুল করে বাইডেন জয়ী হবেন—এমন কথা বলছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব সতর্ক করে বলেছেন, ‘চলুন অপেক্ষা করি এবং দেখি কী ঘটে। স্পষ্টতই এতে ব্যাপক অনিশ্চয়তা রয়েছে। অনেকের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কাছাকাছি বলে আমি করছি।’

ইউরোপে অবশ্য কিছু নেতা নীরব রয়েছেন। অন্যরা ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যানগ্রেট ক্রাম্প-কারেনবাওয়ার গত বুধবার সতর্ক করে বলেছেন, ‘এটি এমন একটি পরিস্থিতি, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাংবিধানিক সংকট তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা যথাযথভাবেই বলছেন। এটি এমন একটি বিষয়, যা আমাদের অবশ্যই উদ্বেগের কারণ হতে পারে।’

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, তিনি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন। কাউকে অভিনন্দন জানাতে ফোন করেননি। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফল তারাই প্রকাশ করবে। কানাডা কেবল দেখে যাবে।

অস্ট্রেলিয়ার লেবার পার্টির সিনেটর পেনি ওং টুইট করে বলেছেন, মার্কিন নাগরিকেরা ভোট দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। ভোটের ফলাফল পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জটিল দ্বন্দ্বে জড়িয়ে থাকা চীন কী বলছে, তা নিয়ে অনেকেরই আগ্রহ রয়েছে। তবে মার্কিন নির্বাচন ঘিরে চীন তাদের কোনো অবস্থান জানায়নি। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েবিন বলেন, মার্কিন নির্বাচন তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ ঘটনা। এতে চীনের কোনো অবস্থান নেই।

বিজ্ঞাপন

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের প্রধান সম্পাদক হু শিনজিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনকে ঘিরে যে অস্থিরতা তৈরি হতে যাচ্ছে, সে পরিস্থিতিকে দরিদ্র দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

রাশিয়ায় ক্রেমলিন–সমর্থক আইনপ্রণেতা ভায়চেস্লাভ নিকোনভ ফেসবুকে জানান, এবারের নির্বাচনের ফল জঘন্যতম। আইনি লড়াইয়ে যিনিই জিতুন না কেন, অর্ধেক আমেরিকান তাঁকে বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিবেচনা করবেন না। তিনি মজা করে লিখেছেন, ‘মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল দেখতে দেখতে চলুন “আমরা প্রচুর পপকর্ন জমা করি”।’

রাশিয়ার বিরোধী দলের নেতা অ্যালেক্সি নাভালনি নির্বাচনের ফলাফল পেতে দেরির মধ্যেও সান্ত্বনা খুঁজেছেন। কিছুদিন আগে ক্রেমলিনের সমালোচনা করায় বিষ প্রয়োগে হত্যাচেষ্টা করা হয়েছিল নাভালনিকে। তিনি বলেন, এতে বোঝা যায় গণতন্ত্র কাজ করছে। তিনি টুইট করে বলেছেন, ‘জেগে উঠুন এবং টুইটারে গিয়ে দেখুন কে জিতল। এখনো তা পরিষ্কার হয়নি। এটাই এখন নির্বাচন।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিয়ে ভাবছে না বলে জানিয়েছে ইরান। গত মঙ্গলবার ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি একটি টুইটবার্তায় বলেছেন, ‘মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আমাদের নীতিকে প্রভাবিত করবে না।’

ফিলিপাইনের ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি ফিলিপিনো আমেরিকানদের রিপাবলিকান প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু ৪ নভেম্বর প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র হ্যারি রোক বলেছেন, ফিলিপাইন সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের কোনো বড় পরিবর্তন আশা করবে না। নির্বাচনে যিনিই জিতুন, প্রেসিডেন্ট তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখবেন।

মন্তব্য পড়ুন 0