বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শুরু থেকেই করোনা ছড়ানোর জন্য চীনকে দায়ী করে আসছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো। তাদের অভিযোগ, উহানের গবেষণাগার থেকে করোনা ছড়ানো হয়েছে। আর চীন এই তথ্য বিশ্ববাসীর কাছে গোপন করেছে। এর জবাবে বেইজিং বরাবর বলে এসেছে, মানুষের শরীরে করোনা ছড়িয়েছে প্রাকৃতিকভাবে। অভিযোগের তদন্ত করতে উহান ঘুরে এসেছে ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি দল। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌছাতে পারেননি বিশেষজ্ঞরা। করোনার উৎস সম্পর্কে এখনও জানা যায়নি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য।

এই পরিস্থিতিতে করোনার উৎস নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের দ্বিধা–বিভক্তি দূর হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের (ওডিএসআই) দপ্তর থেকে স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার উৎস সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট করে হয়তো কখনোই জানা যাবে না। এটা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দুটো মত রয়েছে। কিন্তু তাঁরা যেকোন একটি মতের পক্ষে অবস্থান নিতে সক্ষম হননি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, করোনা জৈব অস্ত্র হিসেবে বিশ্বে ছড়ানো হয়েছে– এমনটা দাবি করেন অনেকেই। এমন দাবির পেছনে সুষ্পষ্ট প্রমাণ নেই। যাঁরা এমন কথা বলেন, তাঁদের কেউই উহানের গবেষণাগারে গিয়ে তদন্ত করেননি। সেখানে তাঁদের সরাসরি প্রবেশাধিকার নেই। তাঁরা ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন।

করোনার উৎস সম্পর্কে এর আগে একটি প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জন্য তৈরি করেছিল দেশটির গোয়েন্দারা। গত আগস্টে সেটি প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের হালনাগাদ হিসেবে শুক্রবার এই প্রতিবেদন অবমুক্ত করেছে ওডিএসআই। দেশটির গোয়েন্দাদের একটি অংশের মতে, করোনা জীবজন্তুর মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবে ছড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এমনটা দেখা যাচ্ছে। কয়েকমাস ধরে বিভিন্ন দেশে বন্য জীবজন্তুর মধ্যে ব্যাপক পরিসরে ও স্বাভাবিকভাবে করোনা ছড়ানোর প্রমাণ মিলেছে।

তবে জীবজন্তুর শরীর থেকে করোনা মানুষের শরীরে এসেছে, এমন ধারণায় আপত্তি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত চারটি গোয়েন্দা সংস্থা ও অনেকগুলো সংস্থার সমন্বয়ে একটি জোটের। তবে এই বিষয়ে নিজস্ব দাবির পক্ষে তারা জোরালো তথ্য–প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। একটি গোয়েন্দা সংস্থার মতে, উহানের গবেষণাগারে পশুর শরীরে পরীক্ষার সময় অসাবধানতার জের ধরে মানুষের শরীরে করোনা ছড়িয়ে থাকতে পারে।

তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একমত হয়েছে যে, নতুন করে কোনো তথ্য–উপাত্ত পাওয়া না গেলে করোনার উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত জানা অধরাই রয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে প্রধান বাধা উহানে প্রথম দিককার কোভিড–১৯ আক্রান্ত রোগীদের সংরক্ষিত নমুনা পরীক্ষা করার সুযোগ না থাকা। চীন সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের এই সুযোগ দেওয়া হলে মানুষের শরীরে করোনার উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পথ আরেকটু প্রশস্ত হতে পারে।

মার্কিন গোয়েন্দাদের এই প্রতিবেদন সম্পর্কে ওয়াশিংটনের চীনা দূতাবাস এখন পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এদিকে করোনাভাইরাসের উৎস তদন্তে চীনকে আরও সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। এই বিষয়ে তদন্তের জন্য নতুন একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে সংস্থাটি। ডব্লিউএইচও বলছে, কীভাবে করোনার সূত্রপাত হলো, তা খুঁজে বের করতেই এই টাস্কফোর্স। এই টাস্কফোর্সই শেষ সুযোগ করোনার উৎস সন্ধানের জন্য।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন