default-image

কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড নিয়ে মুখ খুলেছেন দেশটির শীর্ষ ছয়জন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বক্তব্য নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসে দেশটিতে মারাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পেছনে সরকারের প্রস্তুতিহীনতার নিবিড় সম্পর্ক আছে।

সিএনএন বলছে, মহামারি পরিস্থিতিতে পুরো যুক্তরাষ্ট্রেই একধরনের বিভক্তি লক্ষ করা গেছে। তার রেশ এখনো আছে। তবে এই শীর্ষ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিভক্তি আমেরিকার নেতৃত্বেও প্রকট ছিল। আর এ কারণেই মহামারির শুরুতে করোনাভাইরাস ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধ ছিল না মার্কিন সরকার। এ কারণে পরবর্তী সময়ে বাজে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং এ পর্যন্ত কোভিড-১৯ রোগে দেশটিতে পাঁচ লাখেরও বেশি মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।

সিএনএনের সঙ্গে কথা বলেছেন চিকিৎসক ডেবোরাহ বার্ক্স, অ্যান্থনি ফাউসি, ব্রেট গেরোয়েরা, স্টিফেন হান, রবার্ট ক্যাডলেক ও রবার্ট রেডফিল্ড। ডেবোরাহ বলেন, শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল যে হোয়াইট হাউসে কর্মরত চিকিৎসকেরা মহামারি পরিস্থিতিকে যতটা গুরুত্বপূর্ণ ভাবছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি তেমনটা ছিল না। ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন মনে করছিল, করোনাভাইরাস মহামারি এমন ভয়াবহ কিছু নয়।

ডেবোরাহ ছিলেন হোয়াইট হাউসের করোনাভাইরাস রেসপন্স টিমের সমন্বয়ক। গত বছরের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে তিনি হোয়াইট হাউসের করোনাভাইরাস টাস্কফোর্সের সদস্য হন। তিনি বলেন, ‘কাজ শুরুর পর প্রথমত আমি নিশ্চিত করতে চাইছিলাম, এই রোগে আমেরিকানদের জীবনের ঝুঁকি যে কম, তা যেন বলা বন্ধ হয়। আমি বুঝতে পারছিলাম যে বিপর্যয় আসছে এবং আমি এও বুঝতে পারছিলাম, আমরা প্রস্তুত নই। আমার মনে হয়েছিল, আমাদের কিছু করা উচিত।’

কিন্তু হোয়াইট হাউসের একটি গোষ্ঠী বিশ্বাস করত, করোনা মহামারি এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। এমন তথ্য জানিয়ে ডেবোরাহ বলেন, ‘আরেকটি গোষ্ঠী মনে করত, আমরা যা–ই করি না কেন, ফলাফল একই হবে।’ তিনি জানান, এমন বিভক্তির প্রভাব পড়েছিল হোয়াইট হাউসের কিছু সংবাদ সম্মেলনে।

বিজ্ঞাপন
default-image

ডেবোরাহ বার্ক্স বলেন, ‘শুরু থেকেই সবার হাবভাবে আমার মনে হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে মাস্ক পরার বিষয়ে সমর্থন দেন না। রোজ গার্ডেনে এমনই এক ঘটনায় আমি স্পষ্ট বুঝে গিয়েছিলাম, তাঁরা চান না যে আমরা মাস্ক পরি। তাই মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য এবং এমনকি কয়েকজন সামরিক সদস্যও মাস্ক খুলে রাখতেন। আমি ও শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউসি মাস্ক খুলতাম না।’

ডেবোরাহ জানান, মহামারির শুরুর দিনগুলোয় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁকে ফোন করেছিলেন। ওই কথোপকথন বেশ ‘অস্বস্তিকর’ ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি বার্ক্স।

ট্রাম্পের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজের পরিচালক ছিলেন অ্যান্থনি ফাউসি। তিনি বলেন, চিকিৎসকেরা সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকা, মাস্ক পরা এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যকে শাটডাউনের পদক্ষেপ নিতে বলছিলেন। ওই সময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন রাজ্যগুলোকে আগের মতোই থাকতে। এই নির্দেশনা শুনে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন জানিয়ে ফাউসি বলেন, ‘আমি ভাবছিলাম, কী চলছে এসব? এতে আমি স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম।’

যুক্তরাষ্ট্রের সেই সময়কার হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেসের সহকারী সচিব রবার্ট ক্যাডলেক সিএনএনকে বলেছেন, দেশটির সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো জানতই না যে প্রয়োজনীয়সংখ্যক চিকিৎসাসরঞ্জাম আছে কি না। মহামারির শুরুর দিকে ছিল এমন পরিস্থিতি। এর কারণ হিসেবে সাবেক এফডিএ কমিশনার স্টিফেন হান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে আস্থার অভাব ছিল। আমাদের এটি কাটিয়ে ওঠা প্রয়োজন। আমাদের একতাবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।’

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন