বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

করোনা মহামারির পর লকডাউন খুলতে শুরু করার পর থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আগের চেয়ে বেশি বিনিয়োগ করছে। এ ছাড়া করোনা মহামারির সময় যেসব প্রতিষ্ঠান কর্মী হারিয়েছে, তারা এখনো সবাইকে ফিরে পায়নি। তারা কর্মীর ঘাটতি মেটাতে রোবটকে বিকল্প হিসেবে দেখতে শুরু করেছে।

শিল্প গ্রুপ ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর অ্যাডভান্সিং অটোমেশন’ এথ্রি নামেও পরিচত। এর প্রেসিডেন্ট জেফ বার্নস্টেইন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রয়োজনীয় কর্মী পাচ্ছে না। তাই তারা দ্রুত স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির দিকে ছুটছে।’

এথ্রির তথ্য অনুযায়ী, অর্থনীতির অন্যান্য শাখাতেও এখন ধাক্কা দিতে শুরু করেছে রোবট। এত দিন অটো বা গাড়িশিল্পের লোকজনই বেশির ভাগ শিল্প রোবট কিনেছে। তবে গত বছর অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত রোবট ক্রয় গাড়িশিল্প খাতকে ছাড়িয়ে যায়। চলতি বছরেও এ ধারা অব্যাহত রয়েছে।

বছরের প্রথম ৯ মাসে, অটো সম্পর্কিত রোবটের ফরমাশ ২০ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় ১২ হাজার ৫৪৪ ইউনিট রোবট বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে গাড়িশিল্পের বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোর রোবট বিক্রি বেড়েছে ৫৩ শতাংশ।

বার্নস্টেইন বলেন, গাড়িশিল্পে রোবট ব্যবহারের গতি বাড়ছে। অন্যান্য ক্ষেত্র, বিশেষ করে বিভিন্ন ধাতবশিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে এটির ব্যবহার আরও দ্রুতগতিতে বাড়ছে।

যেসব প্রতিষ্ঠান রোবটের ব্যবহার বাড়াচ্ছে, জন নিউম্যানের প্রতিষ্ঠান সেসবের একটি। অ্যাথেনা ম্যানুফ্যাকচারিং নামে টেক্সাসভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি ধাতবশিল্পের উপকরণ তৈরির কাজ করে। এখন প্রতিষ্ঠানটিতে সাতটি রোবট কাজ করছে। গত বছর তাদের তিনটি রোবট ছিল। তারা ২০১৬ সালে প্রথম রোবট কেনে। নিউম্যান বলেন, রোবট ব্যবহারের ফলে অ্যাথেনার চাহিদা বেড়েছে। সেমিকন্ডাক্টর সরঞ্জাম প্রস্তুতকারকদের কাছ থেকে চাহিদা বেড়েছে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত।

নিউম্যান আরও বলেন, রোবট চালু করার পর থেকে তাঁর প্রতিষ্ঠান ২৪ ঘণ্টা কাজ চালিয়ে যেতে পারছে। প্রতিষ্ঠানটিতে মোট কর্মীর সংখ্যা ২৫০ জন হলেও কাজ চালাতে তাঁদের হিমশিম খেতে হয়। বিশেষ করে অজনপ্রিয় রাতের পালার দায়িত্ব পালনে অনীহা দেখান কর্মীরা। এ শূন্যতা পূরণে রোবটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন