প্রসিকিউশন থেকে অভিযোগ আনা হয়েছে, ১৫ বছর ধরে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন ও এর নির্বাহী কৌশলে কর ফাঁকি দিয়েছেন। দীর্ঘ তদন্তে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল ট্রাম্পের করবিবরণী আদালতের অনুমতি নিয়ে সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন। যদিও প্রথম দফার মামলায় ট্রাম্পের নামে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান এবং এ নিয়ে আরও মামলা হবে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিস থেকে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, অ্যালেন উইসেলবার্গ ১৭ লাখ ডলারের আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ করেননি। এ কারণে তাঁকে এমন আয়ের ওপর কর দিতে হয়নি। মামলায় বলা হয়েছে, এভাবে আনুমানিক এক লাখ ছয় হাজারের বেশি রাজ্য কর, দুই লাখ ৩৮ হাজার ডলারের বেশি সিটি ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। ৯৪ হাজার ডলারের ফেডারেল ট্যাক্স ক্রেডিট এবং ৩৮ হাজার ডলারের বেশি রাজ্য ট্যাক্স রিফান্ড গ্রহণ করা হয়েছে ভুল তথ্য প্রদান করে। বিভিন্ন অন্যায্য খাত দেখিয়ে কর রেয়াত নেওয়া হয়েছে বলে মামলার বিবরণে দেখানো হয়েছে। হিসাব বিবরণীতে জালিয়াতির কারণে বিষয়টি অপরাধ আইনের আওতায় চলে এসেছে বলে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন।

ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর আইন বিভাগের অধ্যাপক ড্যানিয়েল হেমেল বলেছেন, সাধারণ কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য এমন অপরাধ আইনের মামলা স্বাভাবিক নয়। বিশাল অঙ্কের কর জালিয়াতির কারণেই এ মামলা করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেতিশিয়া জেমস বলেছেন, তদন্ত এখনো চলমান। আইনের যেখানেই লঙ্ঘন পাওয়া যাবে সেখানেই যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ মামলার প্রতি গভীর পর্যবেক্ষণ রাখছেন এমন লোকজনের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম দ্য হিল এক প্রতিবেদনে বলেছে, অ্যালেন উইসেলবার্গের বিরুদ্ধে মামলা করার মাধ্যমে তাঁকে নিয়ন্ত্রণে আনার আইনগত প্রচেষ্টা বলে অনুমান করা যায়।

অ্যালেন উইসেলবার্গ ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকে ঘনিষ্ঠ। অনেক অভ্যন্তরীণ বিষয় তাঁর নখদর্পণে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্য প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অ্যালেন উইসেলবার্গের সহযোগিতার প্রয়োজন হতে পারে। নিজেকে বাঁচানোর জন্য অ্যালেন উইসেলবার্গ প্রসিকিউশনকে সহযোগিতা করলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গের আইন বিভাগের অধ্যাপক ফিলিপ হেকনেই বলেছেন, এখন দেখতে হবে অ্যালেন উইসেলবার্গের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ কতটা শক্তিশালী, যার জন্য চাপে পড়ে তিনি ট্রাম্পের বিপক্ষে দাঁড়াতে বাধ্য হতে পারেন। বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয়।