ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মোকাবিলা করতে কুয়েতের উদ্দেশে রওনা হয়েছে চার হাজার মার্কিন সেনা। তারা সেখানে পৌঁছালে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে এটাই হবে সবচেয়ে বড় মার্কিন স্থলবাহিনী।
ইরাক ও সিরিয়ায় সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ বিষয়ে একটি পরিকল্পনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কংগ্রেসে পাঠানোর পর এ পদক্ষেপ এল। খবর এপি ও ওয়াশিংটন টাইমসের।
যুক্তরাষ্ট্র একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠন করে কয়েক মাস ধরে বিমান হামলা চালিয়ে যাওয়ার পরও জঙ্গিগোষ্ঠীটিকে সেভাবে দমন করা যায়নি। গত শুক্রবারও তারা আল বাগদাদি নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের দখল নিয়েছে। শহরটি একটি মার্কিন সেনা প্রশিক্ষণ ঘাঁটি থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
নতুন যে চার হাজার মার্কিন সেনা কুয়েতের উদ্দেশে রওনা হয়েছে, তারা কলোরাডোর ফোর্ট কারসনসের তৃতীয় ব্রিগেড কমব্যাট টিমের সদস্য। এটি সেখানকার সবচেয়ে ভারী অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত বাহিনী। তাদের কাছে ট্যাংক ও ব্র্যাডলি ফাইটিং ভেহিকলসহ (বিএফভি) অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম আছে। পাশাপাশি এই ব্রিগেডে রয়েছেন অতীতে এক বা একাধিকবার ইরাকে যুদ্ধ করার অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ অনেক সেনাসদস্য।
ব্রিগেডের কমান্ডার গ্রেগ সিয়েরা বলেন, ‘আমরা যুদ্ধের ব্যাপারে অনভিজ্ঞ নই। আমরা এ মিশনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। সম্ভাব্য আকস্মিক লড়াইয়ের জন্যও তৈরি আছি।... শেষ পর্যন্ত আমরা যদি লড়াইয়ে জড়িয়ে যাই, তাহলে চূড়ান্তভাবেই জিতব।’
বিমান হামলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ওবামা অন্তত আগামী তিন বছর আইএস জঙ্গিদের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহারের চিন্তাভাবনা করছেন। এ-সংক্রান্ত একটি পরিকল্পনা তিনি কংগ্রেসে পাঠিয়েছেন। পরিকল্পনার আওতায় প্রেসিডেন্ট ২০১৮ সাল পর্যন্ত আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিভিন্ন ধরনের সামরিক অস্ত্র-সরঞ্জাম দ্রুততার সঙ্গে পাঠানোর কর্তৃত্ব পাবেন।
ইরাক বা আফগানিস্তান যুদ্ধের মতো আইএসবিরোধী লড়াইয়ে বড় পরিসরে মার্কিন স্থলবাহিনী ব্যবহারের সম্ভাবনা শুরু থেকেই নাকচ করে আসছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। তবে ইরাকের স্থানীয় বাহিনীগুলোকে প্রশিক্ষণ দিতে আগে থেকেই সেখানে রয়েছেন শত শত মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞ। পাশাপাশি ওবামা সম্প্রতি বলেছেন, অবস্থা যদি এমন হয় যে আইএসের নেতাদের জড়ো হওয়ার ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, অথচ স্থানীয় বাহিনীগুলো সেখানে আঘাত হানতে সক্ষম নয়, এমন পরিস্থিতিতে তিনি মার্কিন বিশেষ বাহিনীকে সেখানে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেবেন।
ওবামার ওই ঘোষণার অংশ হিসেবেই কুয়েতে চার হাজার সেনার ব্রিগেডটি পাঠানো হলো বলে মনে করা হচ্ছে। ২০১১ সালে ইরাক যুদ্ধের অবসানের পর থেকেই প্রতিবেশী কুয়েতে একটি ব্রিগেড রেখে দিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। ওই ব্রিগেডের সদস্যরা আইএসবিরোধী লড়াইয়ে মিত্র বাহিনীগুলোকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে।

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন