বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাইডেনের জয়ের সত্যায়নে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশন বসে। এই প্রক্রিয়া ঠেকাতে ট্রাম্পের উসকানিতে তাঁর উগ্র সমর্থকেরা কংগ্রেস ভবনে (ক্যাপিটল হিল) সহিংস হামলা চালান।

ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্প-সমর্থকদের নজিরবিহীন তাণ্ডবের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বের মানুষকে হতবাক করে দেয়। এই হামলাকে মার্কিন গণতন্ত্রের ওপর চরম আঘাত বলে বর্ণনা করা হয়।

২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প ক্ষমতা থেকে বিদায় নেন। নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন বাইডেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ক্ষত সারিয়ে তোলার পাশাপাশি বিভেদ-বিভক্তি দূর করার প্রতিশ্রুতি দেন।

কিন্তু জরিপে দেখা যাচ্ছে, ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনার এক বছর পরও মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে গণতন্ত্র নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।

সিবিএসের জরিপে দেখা গেছে, দুই-তৃতীয়াংশ অংশগ্রহণকারী মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন। যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সহিংসতার পেছনে ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।

ওয়াশিংটন পোস্ট/ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের যৌথ জরিপে দেখা গেছে, আগের চেয়ে অনেক কমসংখ্যক মার্কিন নাগরিক এখন নিজেদের দেশের গণতন্ত্র নিয়ে গর্ব করেন। ২০০২ সালে ৯০ শতাংশ মানুষ গণতন্ত্র প্রশ্নে গর্বিত ছিলেন। এখন তা কমে ৫৪ শতাংশ দাঁড়িয়েছে।

সিবিএসের জরিপ অনুযায়ী, ২৮ শতাংশ মনে করে, নির্বাচনের ফলাফল অটুট রাখতে শক্তিপ্রয়োগ করা যেতে পারে।

ওয়াশিংটন পোস্ট/ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৩৪ শতাংশ মনে করে, সরকারের বিরুদ্ধে সহিংস পদক্ষেপ কখনো কখনো ন্যায়সংগত হতে পারে। কয়েক দশকের মধ্যে এবারই এত বেশিসংখ্যক মানুষ সহিংসতাকে ন্যায্য মনে করছে।

জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ মনে করে, ক্যাপিটলে হামলার ঘটনায় ট্রাম্পের ব্যাপক দায় রয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্প-সমর্থকদের মধ্যে ৮৩ শতাংশই মনে করে এই ঘটনায় তাঁর দায় সামান্য কিংবা একেবারেই নেই।

ট্রাম্প-সমর্থকদের দুই-তৃতীয়াংশ তাঁর ভিত্তিহীন অভিযোগ বিশ্বাস করে চলছে যে বাইডেন বৈধভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নন।

সিবিএসের জরিপে দেখা গেছে, ২৬ শতাংশ আমেরিকান চান ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন।

ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনায় প্রতিনিধি পরিষদের একটি কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। এই কমিটি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের কাছ থেকে খুব কমই সহযোগিতা পাচ্ছে। তবে তারা ইতিমধ্যে তিন শতাধিক মানুষের জবানবন্দি নিয়েছে। হাজারো নথি সংগ্রহ করেছে।

রোববার এবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্যানেলটির চেয়ারম্যান বেনি থম্পসন বলেন, তদন্তে তাঁরা এমন কিছু বিষয় পেয়েছেন, যা সত্যিকার অর্থেই উদ্বেগের। যেমন—তাঁরা দেখেছেন, মানুষ মার্কিন গণতান্ত্রিক অখণ্ডতাকে ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছে। নির্বাচনের ভিত্তিকে দুর্বল করতে কিছুসংখ্যক মানুষের সমন্বিত তৎপরতা দেখা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন