বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নাসার বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, তাঁদের পাঠানো এই বিশেষ রোবট যান চন্দ্রপৃষ্ঠের নিচে বরফ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারবে। এই বরফ একদিন রকেটের জ্বালানি হিসেবে রূপান্তর করে তা মঙ্গলগ্রহ বা মহাকাশের আরও গভীরে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

নাসার প্লানেটরি সায়েন্স বিভাগের পরিচালক লরি গ্লেজ বলেছেন, ‘নোবাইল ক্র্যাটার চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে অবস্থিত, যা মহাকাশের অন্য কোনো বস্তুর সঙ্গে সংঘর্ষে সৃষ্টি হয়েছে।’

চাঁদের দক্ষিণ মেরুর ওই অঞ্চল সৌরজগতের অন্যতম শীতল এলাকা এবং তা কেবল দূর থেকে সেন্সর ব্যবহার করে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নাসার লুনার রিকোনাইসেন্স অরবিটার ও লুনার ক্র্যাটার অবজারভেশন ও সেন্সিং স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হয়েছে।

লরি গ্লেজ বলেছেন, ভাইপার চন্দ্রপৃষ্ঠে কয়েক ফুট পর্যন্ত গর্ত করতে পারবে।
রোভারটি ‘স্টার ওয়ার্স’ সিনেমায় দেখা ড্রয়েডের মতো। অনেকটাই গলফ খেলার সময় ব্যবহৃত যেসব গাড়ি দেখা যায়, এটি সে আদলের। এর ওজন হবে ৪৩০ কেজি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মঙ্গল গ্রহে যেসব রোভার পাঠানো হয়েছে, সে তুলনায় ভাইপারকে দ্রুত নির্দেশ পাঠানো যাবে। কারণ, পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব মাত্র দুই লাখ মাইল। রোভারটি চাঁদের বুকে ঘণ্টায় দশমিক ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে সক্ষম হবে। এটি চলবে সৌরশক্তিতে। তবে এতে ৫০ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যাবে। এটি অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। এটি কাঁকড়ার মতো পাশেও চলতে পারে। তাই এতে থাকা সৌর প্যানেলটি চার্জের জন্য সব সময় সূর্যের দিকে মুখ করে রাখা হবে।

এই মিশনের লক্ষ্য বিষয়ে ভাইপারের গবেষক দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কীভাবে বরফ চাঁদে পৌঁছেছিল, তা তাঁরা জানতে চান। এ ছাড়া কোটি কোটি বছর ধরে কীভাবে তা সংরক্ষিত ছিল এবং এখন সেখানকার পানি কোথায় গেছে, তা বের করতে চান।
যুক্তরাষ্ট্র চাঁদের বুকে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যে আর্টেমিস নামের যে মিশন পরিকল্পনা করেছে, ভাইপার রোভার তারই অংশ। এ মিশনের অধীনে ২০২৪ সালে চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে গবেষকেরা বলেছেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আরও বেশি সময় লেগে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন