জেনেভায় অনুষ্ঠিত পারমাণবিক বিষয়ের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ইতিবাচকভাবে সাড়া দিয়েছে। দেশ দুটি এমন একটি চুক্তির পথে হাঁটছে, যার আওতায় তেহরান অন্তত আগামী ১০ বছর পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে সক্ষম হবে না। তবে ওই সময়ের পর দেশটি আবার এর পারমাণবিক কর্মসূচি চালাতে পারবে। খবর রয়টার্স ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের।
জেনেভায় গত রোববার থেকে দুই দিনের একটি বৈঠক করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ। বৈঠক শেষে গত সোমবার একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। তবে এখনো অনেক পথ যেতে হবে।’ ওই কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় ওয়াশিংটন ‘সবচেয়ে কঠিন ইস্যুগুলোর কয়েকটিতে শাণ দিতে’ সক্ষম হয়েছে। তাই সমাধানের পথে কাজ করার পথটা সুগম হয়েছে।
একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জারিফও। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ‘পি৫+১ ভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের, বিশেষ করে মার্কিনদের সঙ্গে গত কয়েক দিনে আমরা আন্তরিকতাপূর্ণ আলোচনা করেছি।...তবে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর অনেক পথ বাকি রয়েছে।’
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান ও ছয় বৃহৎ শক্তির আলোচকেরা আগামী সোমবার থেকেই আবার আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছেন। আলোচনা কোথায় হবে, সে বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বৃহৎ এই ছয় শক্তি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি। এরা ‘পি৫+১’ নামে পরিচিত। ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দেশটির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চালিয়ে আসছে এ জোট।
কূটনীতিকেরা বলছেন, ছয় বৃহৎ শক্তি একটি ১০ বছরমেয়াদি চুক্তির পথেই হাঁটছে। এ চুক্তি মানলে ইরান আগামী ১০ বছরে বোমা তৈরির জন্য যথেষ্ট উপাদান মজুত করতে সক্ষম হবে না। ওই সময়ের পর দেশটি আবারও ধীরে ধীরে তার সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারবে। চুক্তিতে ইরান কত মাত্রা পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে, এ কাজে কতগুলো সেন্ট্রিফিউজ রাখতে পারবে ইত্যাদি কঠোরভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। তার মানে, একটি মাত্র পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে চাইলেও তার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত করতে ইরানকে এখন থেকে অন্তত ১২ মাস অপেক্ষা করতে হবে। পাশ্চাত্যের কূটনীতিকেরা এমনটাই চেয়ে আসছেন।
ইরান আগে থেকেই বলে আসছিল, তাদের কর্মসূচি নিয়ন্ত্রিত রাখার সময়টা কোনোমতেই ১০ বছরের বেশি হওয়া চলবে না। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল ২০ বছর। অর্থাৎ সময়ের ক্ষেত্রে তারা উল্লেখযোগ্য আপস করতে যাচ্ছে। তবে মার্কিন কংগ্রেস ও ইসরায়েল তাৎক্ষণিকভাবেই এ সমঝোতার সমালোচনা করেছে। তাদের ভাষ্য, ১০ বছরের সময় কাঠামো পর্যাপ্ত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ মনে করা হয়ে থাকে। আলোচনায় ইরানের সঙ্গে সন্তোষজনক ফল পাওয়া না গেলে দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর হুমকি দিয়ে আসছে ইসরায়েল।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বছরের পর বছর ধরে পাশ্চাত্যের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলে আসছে। পাশ্চাত্যের সন্দেহ, তেহরান পরমাণু কর্মসূচির আড়ালে পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে ইরান। দেশটির ভাষ্য, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রযুক্তি তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন বা চিকিৎসাসেবার মতো কাজে ব্যবহার করতে চায়।

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন