default-image

পাচারকারীরা নিরাপত্তাকর্মীদের চোখ ফাঁকি দিতে নিত্যনতুন উপায় বের করেন। তাই বলে শরীরে বেঁধে পাখি পাচারের ঘটনা প্রকাশ পেলে অবাক হতেই হয়। তা–ও একটি–দুটি নয়, ৩৫টি জ্যান্ত পাখি। অবাক করা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন গায়ানার নাগরিক কেভিন অ্যান্ড্রি ম্যাকেঞ্জি। নিজ দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাখি পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন তিনি। গানের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পাখিগুলো নিউইয়র্কে আনা হয়েছিল।

৩৬ বছরের কেভিন গত সোমবার নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন। তল্লাশির সময় কাস্টমস কর্মকর্তাদের চোখ কপালে ওঠে। কেভিনের ঢিলেঢালা জ্যাকেটের মধ্যে তাঁরা ছোট ছোট অনেকগুলো চুল কোঁকড়া করার ক্লিপের মতো দেখতে গোলাকার কনটেইনার আকৃতির জিনিস দেখতে পান। তার ভেতরেই জ্যান্ত ফিঞ্চ পাখি লুকিয়ে রেখেছিলেন কেভিন। ছোট্ট কনটেইনারগুলো এমনভাবে তৈরি, যাতে পাখিদের নিশ্বাস নিতে সমস্যা না হয়।

বিজ্ঞাপন

শুধু জ্যাকেট নয়, কেভিনের পা থেকেও জ্যান্ত পাখি উদ্ধার করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ছোট ছোট কনটেইনারগুলো তাঁর গোড়ালির চারপাশে আটকানো ছিল। এভাবেই তিনি নিরাপত্তাকর্মীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে ৩৫টি জ্যান্ত ফিঞ্চ পাখি নিয়ে উড়োজাহাজে চেপে বসেছিলেন। এমনকি গায়ানা থেকে নিউইয়র্ক পর্যন্ত পৌঁছেও গিয়েছিলেন।

এ ঘটনায় আটক হয়েছেন কেভিন। নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নির দপ্তরে তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে প্রাণী আমদানির অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও ২৫ হাজার ডলার বন্ডের বিনিময়ে সাময়িক মুক্তি পেয়েছেন কেভিন।

উচ্ছল ও সুরেলা কণ্ঠ এবং গান গাইতে পারায় গায়ানার ফিঞ্চ পাখির বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কেভিন জানিয়েছেন, গায়ানার রাজধানী জর্জ টাউনে কিছু লোক তাঁকে এসব পাখি নিউইয়র্কে পৌঁছে দিতে বলেছিলেন। এ জন্য তাঁর ৩ হাজার ডলার পাওয়ার কথা ছিল। অগ্রিম হিসেবে ৫০০ ডলার দেওয়া হয়েছে তাঁকে।

যুক্তরাষ্ট্রেও ফিঞ্চ পাখি পাওয়া যায়। তবে গায়ানার পাখিগুলো বেশি ভালো গাইতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন