বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যাঁরা ইতিমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন এবং যাঁদের শরীরে করোনা প্রতিরোধী ব্যবস্থা (অ্যান্টিবডি) গড়ে উঠেছে, তাঁদের অনেকেরই টিকার বুস্টার ডোজ নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। তবে যাঁরা কখনোই করোনায় আক্রান্ত হননি কিন্তু টিকার একটি ডোজ নিয়েছেন, সেসব মানুষের করোনার টিকার বুস্টার ডোজ নেওয়া লাগতে পারে। একই সঙ্গে যাঁরা ইতিমধ্যে করোনায় ভুগেছেন কিন্তু শরীরে পর্যাপ্ত প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি, এমন অল্পসংখ্যক মানুষের টিকার বুস্টার ডোজ নেওয়া দরকার হতে পারে।

প্রায় এক বছর আগে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এমন মানুষের ওপর গবেষণা দুটি পরিচালিত হয়েছে বলে নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নেচার জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি মানুষের অস্থিমজ্জায় রয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী তা সক্রিয় হয়ে ওঠে। অন্যদিকে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বায়োআরজিভে প্রকাশিত অপর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অ্যান্টিবডি করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার অন্তত এক বছর পর পর্যন্ত মানুষের শরীরে বিকশিত হওয়ার ও সক্রিয় থাকার প্রমাণ মিলেছে। এর ফলে অন্তত এক বছর নতুন করে কোভিড-১৯ সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

এ বিষয়ে পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটির ইমিউনোলজিস্ট স্কট হেনসলে বলেন, করোনা হওয়ার পর কিংবা টিকা নেওয়ার পর মানব শরীরে তৈরি হওয়া প্রতিরোধী ব্যবস্থা ক্ষণস্থায়ী, এমন ধারণা ভেঙে দেবে এসব গবেষণা।

অন্যদিকে নিউইয়র্কের রকফেলার ইউনিভার্সিটির ইমিউনোলজিস্ট মাইকেল নুসেঞ্জউয়েগ বলেছেন, ‘ইতিমধ্যে করোনা হয়েছে এবং টিকার প্রাথমিক ডোজ নিয়েছেন এমন মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি চমৎকার কাজ করছে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।

করোনা প্রতিরোধে ‘মেমোরি ম্যাচুরেশন’ শীর্ষক গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন মাইকেল নুসেঞ্জউয়েগ। তিনি জানান, রক্তের বি সেলে করোনা প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, যা ভাইরাসটির বিভিন্ন ধরনের বিরুদ্ধে লড়তে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। টিকা নিলে এটার কার্যকারিতা আরও বাড়ে। কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার পর বি সেলে করোনার অ্যান্টিবডি দ্রুত বংশবিস্তার করে ও সংখ্যায় বেড়ে যায়। সুস্থ হলে তা সংখ্যায় কমে এলেও অস্থিমজ্জায় রয়ে যায়।

গবেষণাটি পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন সেন্ট লুইসের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির গবেষক আলি এলিবেদি। তিনি জানান, কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়া ৭৭ জনের রক্তের নমুনা তিন মাস অন্তর পরীক্ষা করা হয়েছে। আক্রান্তের এক মাস পর থেকে তাঁদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে মাত্র ছয়জন করোনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। বাকিদের উপসর্গ ছিল সামান্য। গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্ত হওয়ার পরের চার মাস তাঁদের শরীরে অ্যান্টিবডি দ্রুত কমেছে। পরবর্তী সময়ে এ হার অনেকটাই শ্লথ হয়ে এসেছিল।

কিছু গবেষকের দাবি, এটা করোনার বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা কমে আসার সুস্পষ্ট প্রমাণ। তবে ওপরে উল্লিখিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি রক্তে অধিক পরিমাণে ও দীর্ঘ মেয়াদে অ্যান্টিবডি থাকে, তাহলে পরবর্তী সময়ে করোনা সংক্রমণের হাত থেকে তা ব্যক্তিকে কার্যকর সুরক্ষা দিতে সক্ষম হবে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন