default-image

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্টনি ফাউসি বলেছেন, কার্যকর টিকা চলে এলেও জনস্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। এর মধ্যে মাস্ক পড়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও হাত ধোয়ার মতো বিষয়গুলো মেনে চলা দরকার হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির গভর্নর ফিল মারফির সঙ্গে ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠানে ফাউসি এ কথা বলেন।

সিএনএনের খবরে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসের পরিচালক বলেন, যে টিকা পাওয়া যাবে তা শতভাগ কার্যকর হবে না এবং তা শতভাগ মানুষ পাবেও না। অর্থাৎ, কোভিড-১৯ সংক্রমণ বিস্তারের জায়গা থেকে যাবে।

বিজ্ঞাপন

ফাউসি বলেন, তিনি যেসব কথা বলেন তা বাস্তবতার নিরিখেই বলেন। তাঁর মতে, ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষকেও যদি টিকা দেওয়া সম্ভব হয় তবে তা গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা যাবে। তবে টিকা এলেও জনস্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

মাস্কের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশেষজ্ঞ বলেন, অ্যারোসল সংক্রমণ বা বাতাসে ক্ষুদ্রতম কণার কারণে সংক্রমণের পক্ষে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। অর্থাৎ, বড় ড্রপলেট হিসেবে পড়ার পরিবর্তে বাতাসে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত করোনাভাইরাস ভেসে থাকতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বাতাস থেকে করোনাভাইরাস ছড়ানোর বিষয়ে নীতিমালা হালনাগাদ করছে।

কবে নাগাদ করোনার কার্যকর টিকা পাওয়া যাবে সে বিষয়ে এখনো পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাচ্ছেন না। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের পরিচালক ফ্রান্সিস কলিন্স বলেছেন, আরও দুটি টিকা তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় যাচ্ছে আগামী মাসেই। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে চারটি করোনার টিকার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা চলছে। এগুলো হচ্ছে জনসন অ্যান্ড জনসন, মডার্না, ফাইজার ও বায়ো এন টেক এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকা।

সূত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) টিকা অনুমোদনের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মের কথা বিবেচনা করছেন। একটি সূত্র বলছে, এফডিএর পক্ষ থেকে টিকা প্রস্তুতকারকদের নতুন নিয়মের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এ নিয়ম অনুযায়ী, স্বেচ্ছাসেবীদের দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়ার পর দুই মাস অপেক্ষা করতে হবে। এরপর তারা জরুরি অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে পারবে। এতে গবেষক ও জনগণ টিকা নিরাপদ ও কার্যকর কিনা তা জানতে পারবে এবং আস্থা তৈরি হবে।

ফাউসি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় অংশের মানুষ এ বছর টিকা পাবেন না। ডিসেম্বরের মধ্যেই সব ডোজ টিকা পাওয়া সম্ভব নয়। ২০২১ সালের তৃতীয় বা চতুর্থ মাসে সব মার্কিন নাগরিককে টিকা কর্মসূচির আওতায় আনা সম্ভব হতে পারে।

মন্তব্য করুন