default-image

করোনাভাইরাসের টিকা দরিদ্র দেশগুলোর আয়ত্তের বাইরেই রয়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান গতকাল শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ কথা বলেছেন। কোভ্যাক্সের টিকা ভাগাভাগি সুবিধার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

সংস্থাটির মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস এক বছর আগে চালু করা অ্যাকসেস টু কোভিড-১৯ টুলস (এসিটি) সম্পর্কে বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৯০ কোটি ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮১ শতাংশ টিকা গেছে উচ্চ বা উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোয়। এর মধ্যে নিম্ন আয়ের দেশগুলো টিকা পেয়েছে দশমিক তিন শতাংশের কম।

তেদরোস একাধিকবার করোনার টিকার অসম বিতরণের নিন্দা জানিয়েছেন এবং সম্পদশালী দেশগুলোকে অতিরিক্ত টিকা নিম্ন আয়ের দেশগুলোর স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি ইতিমধ্যে ৩০ লাখের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

‘কোভ্যাক্স’ মানে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনস গ্লোবাল অ্যাকসেস ফ্যাসিলিটি। এই উদ্যোগের যৌথ নেতৃত্বে ডব্লিউএইচও ছাড়া রয়েছে স্বল্পমূল্যে টিকা দেওয়ার বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্যাভি, সংক্রামক রোগের টিকা তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক সংস্থা (সিইপিআই)। করোনার টিকার ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

করোনার টিকা সরবরাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈশ্বিক কোভ্যাক্স উদ্যোগ থেকে এখন পর্যন্ত ১১৮টি দেশে ৪ কোটি ৫ লাখ ডোজ টিকা সরবরাহ করা হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে ২০০ কোটি টিকার ডোজ সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কোভ্যাক্স।

গত বৃহস্পতিবার কোভ্যাক্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দরিদ্র দেশগুলোর জন্য টিকা সরবরাহ বাড়াতে তারা নতুন উৎপাদনকারীর খোঁজ করছে। ভারত থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা সরবরাহ সমস্যার সমাধান করতে তারা নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করছে। তেদরোস আরও বলেন, নিম্ন আয়ের দেশগুলোয় উচ্চ আয়ের দেশগুলোর তুলনায় ৫ শতাংশের কম করোনা পরীক্ষা হচ্ছে। অধিকাংশ দেশ যথেষ্ট অক্সিজেন ও ডেক্সামেথাসনের সরবরাহ পেতে সমস্যায় ভুগছে।

ডব্লিউএইচও বলেছে, ৯২টি উন্নয়নশীল দেশ, যাদের টিকা কেনার সামর্থ্য কম বা একেবারে নেই, তাদের সহায়তা দিতে ৬০০ কোটি ডলারের তহবিল সংগ্রহ করেছে কোভ্যাক্স। ৭০০ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্য তাদের।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন