default-image

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন বিচার শুরু হতে যাচ্ছে আগামীকাল মঙ্গলবার। এই বিচার শুরুর প্রাক্কালে বেশির ভাগ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে মত দিয়েছেন। যদিও ট্রাম্পের প্রথম অভিশংসন বিচারের বিপক্ষে মত দেন দেশটির বেশির ভাগ নাগরিক। গত রোববার প্রকাশিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ এবং ইপসসের যৌথ জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প অভিশংসন বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন। গত ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবন ক্যাপিটলে তাণ্ডব চালানোর ঘটনায় ‘বিদ্রোহে উসকানি’ দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে ট্রাম্পকে। তবে ওই বিচারের ফলাফল অনেকটাই নিশ্চিত। ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করতে ১০০ সদস্যের সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় দ্বিতীয়বারের মতো খালাস পেতে পারেন ট্রাম্প। কারণ, ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির বেশির ভাগ সদস্যই ট্রাম্পের অভিশংসন বিচারের বিপক্ষে মত দিয়েছেন।

অধিকাংশ রিপাবলিকান সিনেটরের দাবি, ট্রাম্প আর দায়িত্বে নেই। তাই তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরানোর বিষয়টিও অমূলক। তাঁরা ট্রাম্পের অভিশংসন বিচারকে অসাংবিধানিক বলেও উল্লেখ করেছেন। তবে ডেমোক্র্যাটদের দাবি, ট্রাম্পের জবাবদিহির ব্যর্থতা ও দায়িত্বের অবহেলা ভবিষ্যতের প্রেসিডেন্টদের কাছে বার্তা দেবে যে অপরাধ করেও পার পাওয়া যায়। তাই ট্রাম্প ক্ষমতা ছাড়লেও তাঁর বিচার করা অত্যাবশ্যক। এতে ভবিষ্যতের প্রেসিডেন্টরা তাঁদের কাজের প্রতি সজাগ থাকবেন। এ ছাড়া ট্রাম্প যাতে আর ক্ষমতায় ফিরতে না পারেন, সেটাও ওই বিচারের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে চাইছেন ডেমোক্র্যাটরা।

বিজ্ঞাপন
default-image

এবিসি নিউজ ও ইপসোসের জরিপের তথ্যমতে, ৫৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করা এবং আবার তাঁর ক্ষমতায় আসা ঠেকানো উচিত।

তবে ৪৩ শতাংশ ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করার বিপক্ষে। ট্রাম্প কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে প্রথমবার অভিশংসিত হওয়ার পর গত বছরের জানুয়ারিতে সিনেটে বিচার শুরু হয়। ওই সময় এবিসি নিউজ ও ওয়াশিংটন পোস্টের জরিপে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে মত দেন ৪৭ শতাংশ আমেরিকান। আর ৪৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেন, ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত হবে না।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ৬ জানুয়ারি কংগ্রেস ভবনে ক্যাপিটলে তাণ্ডব চালান ট্রাম্পের সমর্থকেরা। ওই ঘটনার প্রেক্ষাপটে ক্ষমতা ছাড়ার এক সপ্তাহে আগে ১৩ জানুয়ারি ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের মতো অভিশংসিত হন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কোনো প্রেসিডেন্ট দুবার অভিশংসিত হলেন। এর আগে ক্ষমতার অপব্যবহার ও কংগ্রেসের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ২০১৯ সালে প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পকে অভিশংসন করা হয়। তবে তৎকালীন রিপাবলিকান পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠ সিনেটে তিনি খালাস পান।

ট্রাম্পের অভিশংসন বিচার নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান পার্টির সিনেট সদস্যদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে জনসমর্থন বেড়েছে। গত বছরের এবিসি নিউজ ও ওয়াশিংটন পোস্টের জরিপের তথ্যমতে, মাত্র ৯ শতাংশ রিপাবলিকান ট্রাম্পকে অপসারণের পক্ষে মত দেন। কিন্তু নতুন জরিপে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ শতাংশে। আর ডেমোক্রেটিক পার্টির ৯২ শতাংশ ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে। নিরপেক্ষ ভোটারদের ৫৪ শতাংশ ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে এবং ৪৫ শতাংশ বিপক্ষে।

মঙ্গলবারের অভিশংসন শুনানিতে উপস্থিত থাকতে গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে অনুরোধ করেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। কিন্তু তা সঙ্গে সঙ্গে খারিজ করে দেন ট্রাম্পের আইনজীবী দলের সদস্যরা। ফলে শুনানিতে ট্রাম্পকে হাজির করানো ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সম্ভব হবে না। তবে এই বিচার কত দিন চলবে, তা নিয়ে অস্পষ্টতা থাকলেও বিচার দ্রুতই শেষ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাবেক প্রেসিডেন্টের অভিশংসন বিচার নিয়ে সংবিধানে স্পষ্ট করে কিছু উল্লেখ না থাকায় ওই বিচার কীভাবে চলবে, তা নিয়ে এখনো রয়েছে অস্পষ্টতা। তাই বিচার শুরু নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন নেতারা। সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ও সংখ্যালঘু দল রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেলসহ উভয়ে দলের বেশ কিছু নেতা বিচারের প্রথম ধাপের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। চালিয়ে যাচ্ছেন। বিচার শুরুর আগে ওই কর্মপরিকল্পনা পাস করবে সিনেট। বিচার শুরুর জন্য উভয় দলই নির্দিষ্ট একটি মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে ট্রাম্পের প্রথম অভিশংসন বিচারের চেয়ে দ্বিতীয় বিচারের সময়কাল সংক্ষিপ্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রথম অভিশংসন বিচার শেষ হতে লেগেছিল তিন সপ্তাহ। শুমারের মুখপাত্র জাস্টিন গুডম্যান বলেছেন, বিচারকাজ দ্রুত শেষ করবে সিনেট।

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন