default-image

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিরপেক্ষ অভিশংসন বিচারের জন্য শপথ গ্রহণ করেছেন সিনেটের সদস্যরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় দফা অভিশংসন বিচারে সিনেট সদস্যদের এমন শপথ নজিরবিহীন ঘটনা। ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিশংসন বিচারের ঘটনাও যুক্তরাষ্ট্রে আগে কখনো ঘটেনি।

২৬ জানুয়ারি মার্কিন সিনেটের পাঁচজন ছাড়া বাকি রিপাবলিকান সদস্যরা ট্রাম্পের অভিশংসন বিচার কার্যক্রমের বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন। অর্থাৎ মাত্র পাঁচজন রিপাবলিকান সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে অবস্থান নেন।

ট্রাম্পের অভিশংসন দণ্ড কার্যকর করতে কমপক্ষে ১৭ জন রিপাবলিকান সিনেটরের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এমন সমর্থন পাওয়া যাবে বলে মনে হচ্ছে না। এ কারণে ট্রাম্পের অভিশংসন দণ্ড কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে শুরুতেই সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।

আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে অভিশংসন আদালতের কাজ শুরু হবে বলে একমত হয়েছেন সিনেটের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা।

সিনেটের প্রবীণতম ডেমোক্র্যাট প্যাট্রিক লেহির সভাপতিত্বে সিনেটররা শপথ গ্রহণ করেন। পরে কেন্টাকি থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান সিনেটর রেন্ড পল পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন। ট্রাম্পের এই অভিশংসনের প্রক্রিয়া অসাংবিধানিক এবং বিচার চলতে পারে না জানিয়ে এর ওপর ভোট গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। ৫৫ ভোটে সিনেটর পলের প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়।

সিনেটর পলের প্রস্তাবের পক্ষে সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির নেতা মিচ ম্যাককনেলসহ ৪৫ জন রিপাবলিকান ভোট দেন। পাঁচজন রিপাবলিকান সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের অবস্থানের পক্ষে ভোট দেন। তাঁরা হলেন মিট রমনি, বেন সেসি, সুজান কলিন্স, লিসা মার্কোয়াস্কি ও প্যাট টোমি।

বিজ্ঞাপন

সিনেটে রেন্ড পল বলেন, ট্রাম্প এখন সাবেক প্রেসিডেন্ট। একজন সাধারণ নাগরিকের সঙ্গে ট্রাম্পের এখন কোনো পার্থক্য নেই। ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়া ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এখন অভিশংসনের বিচার কার্যক্রম চলতে পারে না।

সিনেটর পল বলেন, এই অভিশংসনের প্রক্রিয়া দেশ ও জাতিকে ঐক্যের পরিবর্তে আরও বিভক্ত করবে। এ জন্য এই বিচারে সভাপতিত্ব করতে প্রধান বিচারপতিও অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

পলের বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন সিনেটর মিচ ম্যাককনেল।

পলের বক্তব্যে হতাশা ব্যক্ত করেন সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা চাক শুমার।

শুরুতেই অভিশংসন প্রস্তাব ভোটের কবলে পড়ায় তার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্টসহ একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, অভিশংসন প্রস্তাব থেকে ট্রাম্পের খালাস পাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ট্রাম্পকে দণ্ড দেওয়ার জন্য প্রয়োজন সিনেটের দুই–তৃতীয়াংশের সমর্থন। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে রিপাবলিকান সিনেটরদের ৫ ভোট যোগ করলে মোট ভোট হয় ৫৫। পদাধিকারবলে ভাইস প্রেসিডেন্টের এক ভোট যুক্ত করলেও অভিশংসন দণ্ড কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় ৬৭ ভোট সিনেটে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না।

রিপাবলিকান সিনেট নেতা মিচ ম্যাককনেল গত সপ্তাহে বলেছিলেন, ক্যাপিটল হিলে হামলায় উসকানিদাতা হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দায়ী বলে মনে করেন তিনি। সেই ম্যাককনেলও এখন তাঁর অবস্থান বদলেছেন বলে প্রতীয়মান হয়।

অভিশংসন বিচার শুরুর প্রক্রিয়ায় সভাপতিত্ব করা সিনেটর প্যাট্রিক লেহিকে গতকাল মঙ্গলবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যেতে হয়। সিনেট ফ্লোর থেকে ফিরে তাঁর কার্যালয়ে কাজ করার সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থতা অনুভব করেন। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসক ডাকা হয়। শেষে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবশ্য এদিন রাতেই তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে ট্রাম্প এখনো আলোচনায় টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। একদিকে মার্কিন সিনেটে তাঁর অভিশংসন বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, অন্যদিকে তিনি ক্ষমতা ছাড়ার এক সপ্তাহের মধ্যে ফ্লোরিডায় দপ্তর খুলেছেন। ‘সাবেক প্রেসিডেন্টের অফিস’ নামের এই দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দেশের স্বার্থে নানা কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে।

ইতিমধ্যে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা কমিটি থেকে জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের উদ্যোগে ‘প্যাট্রিয়ট পার্টি’ নামের রাজনৈতিক দল বা রক্ষণশীল প্ল্যাটফর্ম গঠনের সঙ্গে তারা জড়িত নয়।

নির্বাচনী প্রচারণার অর্থ সংগ্রহের সময়ে গঠিত ‘ডোনাল্ড জে ট্রাম্প ফর প্রেসিডেন্ট’ নামের কমিটির পক্ষ থেকে ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্যাট্রিয়ট পার্টি বা এ ধরনের কোনো রাজনৈতিক উদ্যোগের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

বিজ্ঞাপন

ট্রাম্পের নির্বাচনী মুখপাত্র জেসন মিলার বলেছেন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য থেকে ট্রাম্পের এমন উদ্যোগের কথা তাঁরা জেনেছেন, যার সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পর্ক নেই।

নিউইয়র্ক টাইমস গত রোববার এক প্রতিবেদনে জানায়, রিপাবলিকান পার্টির ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য ট্রাম্প ভেতরে-ভেতরে তাঁর অনুসারীদের নিয়ে তৃতীয় একটি রাজনৈতিক দল করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

২০ ডিসেম্বর ওয়াশিংটন ডিসি ত্যাগ করার সময় ট্রাম্প আমেরিকার জনগণের উদ্দেশে কোনো না কোনোভাবে দ্রুত ফিরে আসার কথা বলেছিলেন।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, গত সপ্তাহান্তে ফ্লোরিডায় গলফ খেলার ফাঁকে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। অভিশংসন বিচার মোকাবিলার জন্য ট্রাম্প নিজে ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে ফিরবেন বলে তিনি মনে করেন না। তবে অভিশংসন বিচারপর্ব থেকে তিনি দ্রুত উতরে যাওয়ার আশা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন