default-image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ‘কিউঅ্যান’ গোষ্ঠীর সমর্থক রোজেন বয়ল্যান্ড ক্যাপিটল হিলে সংঘর্ষে পদদলিত হয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় নিহত পাঁচজনের মধ্যে রোজেন একজন। রোজেনের পরিবার বলছে, নির্বাচন নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিথ্যাচারের শিকার রোজেন। ট্রাম্পের কারণেই তাঁকে জীবন দিতে হয়েছে।

রোজেনের বোন লোনা কেভ সংবাদমাধ্যমকে জানান, ওয়াশিংটনে গিয়ে রোজেনের সহিংসতা করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। পরিবার যেতে বাধা দিলে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কেবল ট্রাম্পের প্রতি আমার সমর্থন প্রদর্শন করতে সেখানে যাচ্ছি।’

রোজেন একসময় মাদকাসক্ত ছিলেন। পরে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কাউন্সেলিং শুরু করেন। ট্রাম্প এবং তাঁর সমর্থকদের প্রচারিত অন্ধকার ষড়যন্ত্র তত্ত্ব অনুযায়ী রোজেন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন, ট্রাম্প নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। গত শুক্রবার লোনা তাঁর আটলান্টার শহরতলির বাড়ি থেকে এক বক্তব্যে জানান, এমন একটি তত্ত্বই সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল।

বিজ্ঞাপন

রোজেন মাদকসংক্রান্ত অপরাধে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি রক্ষণশীল জীবনযাপন শুরু করেছিলেন। হঠাৎই তিনি রাজনীতিতে উৎসাহিত হয়ে ওঠেন। তাঁর কেনেসের এক বন্ধু নিকোলাস স্টামাথিস সংবাদমাধ্যমকে এ কথা জানান।

পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ঠেলাঠেলির একপর্যায়ে অনেকে জটলায় আটকা পড়ে যায়। ধাক্কাধাক্কিতে অনেকে নিচে পড়ে পদদলিত হয়। একসময় রোজেনও মাটিতে পড়ে পদদলিত হন। আমি তাঁকে টেনে তোলার চেষ্টা করছিলাম। তখন আরেকজন রোজেনের ওপরে পড়ে যায়। আরেকজন রোজেনের বুকের ওপর দিয়ে হেঁটে চলে যায়
জাস্টিন উইনচেল, রোজেনের বন্ধু

এইচজিটিভি শো গ্রাউন্ড ব্রেকার্সের সাবেক হোস্ট লোনা বলেন, রোজেন আটলান্টায় একটি আসক্তি মুক্তি গ্রুপে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি পরিবারের প্রতিও বেশ মনোযোগী ছিলেন। প্রতিদিন স্কুল থেকে তাঁর ছোট ভাতিজিকে পিকআপ করতেন রোজেন।

লোনা আরও বলেন, ‘আমার নিজের ব্যক্তিগত বিশ্বাস হলো প্রেসিডেন্টের উসকানিমূলক বক্তব্যই বুধবারের এই রক্তক্ষয়ী দাঙ্গাকে উসকে দিয়েছে। এর ভুক্তভোগী হলো তাঁর অন্ধ সমর্থকেরা। রোজেনের ভ্রান্ত রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং কিউঅ্যান গোষ্ঠীর প্রতি তাঁর আনুগত্যের বিষয়েও বোনদের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়েছিল।’

রোজেন তাঁর ফেসবুক পেজে ট্রাম্পের প্রশংসা করে পোস্ট দিতেন। বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও আপলোড করতেন।

রোজেনের বন্ধু স্ট্যামাথিস আটলান্টার ডব্লিউজিসিএল টিভিকে জানান, তাঁরা নিয়মিত ফেসবুক মেসেঞ্জারে চ্যাট করেছেন।

রোজেনের আরেক বন্ধু জাস্টিন উইনচেল বলেছেন, ‘পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ঠেলাঠেলির একপর্যায়ে অনেকে জটলায় আটকা পড়ে যায়। ধাক্কাধাক্কিতে অনেকে নিচে পড়ে পদদলিত হয়। একসময় রোজেনও মাটিতে পড়ে পদদলিত হন। আমি তাঁকে টেনে তোলার চেষ্টা করছিলাম। তখন আরেকজন রোজেনের ওপরে পড়ে যায়। আরেকজন রোজেনের বুকের ওপর দিয়ে হেঁটে চলে যায়।’

টুইটারে রোজেন হোয়াইট হাউসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচালক ড্যান স্কাভিনোর একটি পোস্টে রিটুইট করেন। সেখানে গত বুধবারে তোলা ওয়াশিংটন স্মৃতিস্তম্ভকে ঘিরে কয়েক হাজার মানুষের সমাবেশের একটি ছবিও ছিল। আরেকটি পোস্টে ছিল, ট্রাম্পের বক্তব্য দেওয়ার একটি ছবি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন