default-image

কোনো আপত্তি না জানিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের বাধা মেনে নিয়ে মুক্ত বাণিজ্যের অঙ্গীকার থেকে সরে এল জি-২০-ভুক্ত বাকি ১৯ সদস্য। এর ফলে কোনো রকম সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলো দুই দিনের জি-২০ দেশগুলোর বৈঠক।

গত শনিবার জার্মানির প্যাডেন প্যাডেনে এই বৈঠকের দ্বিতীয় দিন ছিল। এতে অংশ নেয় বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ ২০ অর্থনীতির দেশের অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানেরা।

এর আগে গত বছর চীনে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে ‘সকল প্রকার সংরক্ষণবাদ প্রতিহত’ করার অঙ্গীকার নেয় দেশগুলো। ওই সম্মেলনে বলা হয়, ক্রমবর্ধমান সংরক্ষণবাদ এবং উচ্চ লাভের আশায় আর্থিক বাজারে করা বিনিয়োগের ঝুঁকির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি হুমকির মুখে। তবে ওই সম্মেলনের পর বিশ্ব অর্থনীতির চিত্র পাল্টেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে চলতি বছর ক্ষমতায় এসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকে সংরক্ষণনীতি নিয়ে বেশ আগ্রাসী ট্রাম্প। বিভিন্ন বক্তব্যে জানান, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’—এই নীতিতে বিশ্বাসী তিনি। এমনকি যেসব প্রতিষ্ঠান বিদেশে উৎপাদন করছে, তাদের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হন ট্রাম্প। গতকালও এই নীতির কারণে একরকম ভেস্তে গেল জি-২০-এর আলোচনা। তবে বিপক্ষে থাকলেও বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মিউচিন।

স্টিভেন মিউচিন বলেন, ‘এটা আমার প্রথম জি-২০ বৈঠক, তাই এর আগেরগুলোয় কী বলা হয়েছে, তা আমার দৃষ্টিকোণ থেকে প্রাসঙ্গিক নয়। আমি জানি, আমার প্রেসিডেন্টের কী ইচ্ছা বা নীতি এবং আমি সেখান থেকেই দর-কষাকষি করতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মুক্ত বাণিজ্য বিশ্বাস করি, বিশ্বের সর্ববৃহৎ বাজার যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার আমরা। যেকোনো বাণিজ্য আমাদের জন্য সুফল বয়ে আনে এবং অন্য দেশের ক্ষেত্রেও তাই।’ এই বক্তব্যের পরই তিনি বলেন, ‘আমরা নির্দিষ্ট চুক্তি পুনর্নিরীক্ষা করতে চাই।’

গতকালের বৈঠক সম্পর্কে বিশ্লেষকেরা বলছেন, বৈঠকে মূলত আলোচনা হয়েছে একটি দেশের সঙ্গে বাকি ১৯ দেশের। বৈঠকে মার্কিন এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে কেবল ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী মাইকেল সাপিন কিছুটা হতাশা ব্যক্ত করেন। বাকিরা কোনো তর্ক ছাড়ায় বিষয়টি মেনে নেন।

অনেকটা সমঝোতার সুরে জার্মানির অর্থমন্ত্রী উলফগ্যাং শ্যুবেল বলেন, ‘এর মানে এই নয় আমরা এক নই। আমরা সবাই সংরক্ষণ নীতির বিরুদ্ধে থাকলে কোনো বিবাদই থাকে না। তবে এটা এখনো পরিষ্কার নয় সংরক্ষণনীতি বলতে আমরা কে কী ভাবছি।’

আগামী জুলাইতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জি-২০ সম্মেলনে এ বিষয়ে একটা সিদ্ধান্তে আসা যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অর্থমন্ত্রীরা।

জি-২০-ভুক্ত দেশগুলো হলো অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, কানাডা, চীন, কোরিয়া, মেক্সিকো, রাশিয়া, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, ফ্রান্স, দক্ষিণ আফ্রিকা, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এ ছাড়া জি-২০ সংস্থার সম্মেলনের স্থায়ী সদস্য হলো আইএমএফ, ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক ও বিশ্বব্যাংক। সূত্র: রয়টার্স।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন