বিজ্ঞাপন

ওয়াশিংটন পোস্টে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পর সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কোনো প্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অবশ্য ট্রাম্প আগেই নিউইয়র্কে তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধ তদন্তের প্রক্রিয়াকে ‘ভূত খোঁজার’ আরেকটি প্রচেষ্টা বলে বিবৃতি দিয়েছিলেন। সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর সিএনএন ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া গ্রহণের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।

দুই বছরের বেশি সময় ধরে ম্যানহাটনের ডিসট্রিক্ট অ্যাটর্নি ও তাঁর তদন্ত দল ট্রাম্পের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে তদন্ত করছেন। তাঁদের তদন্তে দেখার বিষয়— ট্রাম্পের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিক কর দিয়েছে কি না। ঋণদাতা ও বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোয় সম্পদের মূল্য সঠিকভাবে দেওয়া হয়েছে কি না। এসব মূল্যের ভিত্তিতে কর পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায়ই শুরু হয়।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর লাখ লাখ পৃষ্ঠার নথিপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। ট্রাম্প তাঁর করসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলেন। পরে তদন্তের জন্য ট্রাম্পের করবিবরণী হস্তান্তর করার বিষয়টি আদলতে গড়ায়।

ম্যানহাটনের অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে করবিবরণী হস্তান্তর না করার আদেশ দিতে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হয়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আইনজীবীদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে করবিবরণী ম্যানহাটনের ডিসট্রিক্ট অ্যাটর্নির কাছে সরবরাহ করা হয়।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অপরাধ তদন্তের আওতায় অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে রয়েছে তাঁর ট্রাম্প টাওয়ার, সেভেন স্প্রিং নামের পারিবারিক এস্টেট, শিকাগোর হোটেল ও কন্ডো টাওয়ার। এ ছাড়া পর্নো তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে মুখ বন্ধ রাখার জন্য ট্রাম্প অর্থ দিয়েছিলেন কি না, এ বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

স্টর্মির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক নিয়ে একপর্যায়ে মার্কিন মিডিয়া সরগরম হয়ে ওঠে। পরে স্টর্মি চুপ হয়ে গেলে জানা যায়, তাঁর মুখ বন্ধ করার জন্য ট্রাম্পের পক্ষ থেকে অর্থ প্রদান করা হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব বিষয়ে কোনো আইন লঙ্ঘন করার বিষয় বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।

প্রথমে ট্রাম্পের বিষয়ে সিভিল আইনের তদন্ত শুরু হলেও নিউইয়র্কের ডিসট্রিক্ট অ্যাটর্নি লিটিশিয়া জেমস পরে জানান, তদন্ত অপরাধ আইনে গড়িয়েছে। নিউইয়র্ক ডিসট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসের মুখপাত্র ফাবিয়েন লেবি সিএনএনকে বলেন, অপরাধ আইনে তদন্ত শুরুর পর বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাম্প অর্গানাইজেশনকে জানানো হয়েছে।

নানা নাটকীয়তার পর ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা থেকে বিদায় নেন ট্রাম্প। তারপর তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা কংগ্রেসের অভিশংসন প্রস্তাব মোকাবিলা করেন। অভিযোগ আছে, গত ৬ জানুয়ারি ট্রাম্পের উসকানিতে ক্যাপিটেল হিলে হামলা হয়। কিন্তু মার্কিন সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট না পড়ায় এ ব্যাপারে তাঁর বিরুদ্ধে অভিশংসন দণ্ড কার্যকর করা যায়নি।

একসময় নিউইয়র্কের বাসিন্দা ট্রাম্প বর্তমানে ফ্লোরিডায় বসবাস করছেন। প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থাতেই তিনি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য থেকে তাঁর আবাসন স্থানান্তরের ঘোষণা দেন। নিউইয়র্ক তাঁর প্রতি সুবিচার করছে না বলে তখন ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন