default-image

আগেই ধারণা করা হচ্ছিল, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে মার্ক এসপার বরখাস্ত হবেন। কারণ, বিভিন্ন বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল। তা ছাড়া তাঁর কিছু মন্তব্যে ট্রাম্প নাখোশও হয়েছিলেন। গতকাল সোমবার মার্ক এসপারকে বরখাস্তের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আজ মঙ্গলবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ট্রাম্প তাঁর চার বছরের মেয়াদকালে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও উপদেষ্টাকে বরখাস্ত করেছেন। অনেক ক্ষেত্রেই তিনি এসব বরখাস্তের ঘোষণা নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে দেন। এসপারের ক্ষেত্রেও তা–ই ঘটল। গতকাল ট্রাম্প টুইট করে এসপারকে বরখাস্তের কথা জানান।

পদত্যাগপত্রে এসপার যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পেন্টাগনে ১৮ মাস দায়িত্ব পালনকালে তাঁর যে অর্জন, সে জন্য তিনি গর্বিত।

ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের বর্তমান প্রধান ক্রিস্টোফার মিলার তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন।

এসপারকে বরখাস্তের ঘোষণা আসার অল্প সময়ের মধ্যে মিলারকে গতকাল দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগনে ঢুকতে দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

ট্রাম্প সদ্যসমাপ্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁর ডেমোক্রেটিক প্রতিপক্ষ জো বাইডেনের কাছে হেরেছেন। তবে তিনি এখন পর্যন্ত তাঁর পরাজয় স্বীকার করেননি। তিনি নির্বাচনের ফলাফল সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন।

নিয়ম অনুসারে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আগামী ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব নেবেন। তার আগপর্যন্ত ট্রাম্প সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা রাখেন।

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সবশেষ এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ট্রাম্প যে তাঁর ক্ষমতার শেষ সময়ে মার্কিন গণতন্ত্র ও বিশ্বে বিশৃঙ্খলার বীজ বপন করতে চাইছেন, এসপারকে বরখাস্তের ঘটনা তার বিরক্তিকর প্রমাণ।

এসপারকে ঠিক কেন বরখাস্ত করা হয়েছে, তা ট্রাম্প জানাননি।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ও এসপারের মধ্যে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না বলে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়। তাঁদের মতবিরোধ প্রকাশ্য হয়ে পড়েছিল। বিরোধের জেরে এসপার বরখাস্ত হতে পারেন বলে আগেই ধারণা করা হচ্ছিল।

চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।বিক্ষোভকালে সেনাবাহিনী সম্পর্কে ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি বিষয়ে এসপার ভিন্নমত প্রকাশ করে বিরোধে জড়ান।

বিক্ষোভ দমাতে সেনা ব্যবহারের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে এ ব্যাপারে এসপার বলেছিলেন, এটা অপ্রয়োজনীয়।

এসপারের মন্তব্য ট্রাম্পকে অখুশি করেছিল বলে জানায় বিবিসি।

সামরিক জোট ন্যাটোর প্রতি ট্রাম্পের অবজ্ঞাপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপারেও এসপার ভিন্নমত পোষণ করে আসছিলেন।

গত সপ্তাহে একটি ওয়েবসাইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসপার স্বীকার করেছিলেন, হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। তবে তিনি বিশ্বাস করেন না, দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়াটা সঠিক কাজ।

এসপারের আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন জেমস ম্যাটিস। সিরিয়াসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধের জেরে তিনি ২০১৮ সালে পদত্যাগ করেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0